গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ এবং আলোচিত রাজস্ব জালিয়াতির ঘটনার মধ্যেই কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) আমদানির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরও তাকে জবাবদিহির আওতায় না এনে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুন ২০২৬ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে গ্রেড-৫-এর যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কাস্টমস অঙ্গনসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস হাউজের একটি বিশেষ অভিযানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করা হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিসহ কয়েকজনকে আসামি করা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত কাস্টমসের তৎকালীন উপ-কমিশনার মো. শামীম উল আলমের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে শামীম উল আলমের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে এলেও রহস্যজনকভাবে তাকে মামলার বাইরে রাখা হয়। এমনকি অভিযুক্তদের অফিসে তার নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য পাওয়ার পরও তাকে আইনের আওতায় না আনার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, বগুড়ায় কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যয়বহুল আপ্যায়ন গ্রহণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। কাস্টমসের একাধিক সূত্রের দাবি, বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একদিকে রাজস্ব সুরক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও, অন্যদিকে ৯ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব জালিয়াতির ঘটনায় নাম জড়ানো একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তির আগেই পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন।
তবে উল্লেখ্য, শামীম উল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত বা আদালতের রায়ে এখনো কোনো দোষ প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
