রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘামে ভেজা মাঠ, তবু প্রণোদনার ছোঁয়া নেই,আখ চাষিদের আক্ষেপ‘ফসল আমাদের, সুবিধা পায় অন্যরা

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ ) প্রতিনিধি
জুন ২৭, ২০২৬ ৫:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রান্তিক আখ চাষিদের মুখে আজ একটাই প্রশ্ন—মাঠে যারা ঘাম ঝরিয়ে দেশের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখেন, সরকারি প্রণোদনার তালিকায় কি তাদের নাম নেই? বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নেই, নেই পর্যাপ্ত তদারকিও। ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে দূরে থেকেই উৎপাদনের ভার বহন করতে হচ্ছে তাদের।

মাঠে নেই কৃষি কর্মকর্তারা, বাড়ছে কৃষকের হতাশা

সরেজমিনে উপজেলার একটি আখের মাঠে কথা হয় একাধিক কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, আখ চাষের মৌসুমে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। আগে গুদাম বাজার এলাকায় অবস্থানরত এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।

রশুনিয়া গ্রামের প্রবীণ আখ চাষি দুলাল খান বলেন, কৃষি অফিসাররা তেমন একটা আসে না। আগে গুদাম বাজারে একজন থাকতেন, চেনা-পরিচয় ছিল। এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। সরকার থেকে সার-বীজ যা দেয়, তা অনেক সময় যারা চাষই করে না তারাই পায়। আমরা পাই না। শুধু বন্যার পরে একবার ৫ কেজি ধান পেয়েছিলাম। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আগেই ঠিক করে রাখে কাকে দেবে। তাই এখন আর এসবের পেছনে যাই না।

প্রণোদনার বঞ্চনা, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণের কথা থাকলেও প্রকৃত প্রান্তিক চাষিদের বড় একটি অংশ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বাজার থেকে বেশি দামে সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে শুধু আখ নয়, অন্যান্য ফসলের চাষও আর্থিক চাপে পড়ছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আজকে যারা এসেছে, তারা সবাই প্রান্তিক কৃষক। তারা নিজেরাই এসে যার যার সার ও বীজ নিয়ে যাচ্ছে। আপনি যেহেতু বিষয়টি জানিয়েছেন, আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। কোনো কৃষক একবার সরকারি প্রণোদনা পেলে একই সুবিধা বারবার পান না। তবে যিনি প্রকৃত প্রাপ্য, তিনি অবশ্যই সরকারি প্রণোদনা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সহযোগিতা করবেন। কৃষি অফিস কৃষকদের জন্যই। কোন ইউনিয়নে কৃষকরা পরামর্শ পাচ্ছেন না, সেটি তদন্ত করে দেখব। আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখব। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমিও নিয়মিত মাঠে যাব। সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই, যাতে কৃষকরা সর্বোচ্চ সেবা পান।

তিনি জানান, আমি এখানে সপরিবারে থাকব। তাই দিন-রাত বা ছুটির দিন—কোনো বিষয় নয়। কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে থাকব। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘামে ভেজা মাঠ, তবু অনাদরের দীর্ঘশ্বাস

আখ চাষিদের ভাষায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা মাঠে কাজ করেন। তাদের ঘামে জন্ম নেয় দেশের খাদ্য ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। অথচ সেই কৃষকরাই যখন প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ কিংবা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, তখন তাদের কষ্ট আরও গভীর হয়। অনেকের ভাষায়, কঠোর পরিশ্রমের পরও আর্থিক সংকট, অপুষ্টি ও অনিশ্চয়তার জীবন যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। তবুও কৃষকের প্রাপ্য সম্মান ও সহায়তা যেন অধরাই থেকে যায়।

এখন দৃষ্টি বাস্তবায়নের দিকে

স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া আশ্বাস শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে। প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি প্রণোদনা, উন্নত বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ পান—এমন কার্যকর উদ্যোগই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।