কুষ্টিয়ার মিরপুর যেন হঠাৎ করেই এক উত্তপ্ত জনপদে রূপ নিয়েছে। নীরব গ্রামের বুক চিরে উঠে এসেছে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর প্রতিরোধের এক অদ্ভুত মিশ্র সুর। আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামে মব সৃষ্টি করে লুটপাট, সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ—এই সবকিছুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হয়েছে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে মিরপুর উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। সভার মঞ্চ যেন পরিণত হয় প্রতিবাদের আগুনঝরা ভাষণের এক আবেগঘন অঙ্গনে।
স্থানীয় বক্তারা অভিযোগ করেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—বরং সুপরিকল্পিতভাবে গ্রামে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করা হয়েছে। তাদের কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের তীব্রতা, আর চোখে ছিল নিরাপত্তাহীনতার ছাপ। তারা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

সভায় মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতানের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় কঠোর হুঁশিয়ারি— আবার যদি এ ধরনের হামলা চালানো হয়, তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র প্রতিরোধের প্রতিজ্ঞা—এক ধরনের আবেগ, যা একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর এবং উত্তেজনাপূর্ণ।
এদিকে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুজ্জামান শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাবু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী, সাবেক সদস্য সচিব আজাদুর রহমান আজাদ বিশ্বাস এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সুলতান আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল শিশুদের একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়। সেই সংঘর্ষে বিএনপির এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে বুরাপাড়া। তারা মনে করছেন, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত—একটি নিঃশব্দ প্রতিশোধের ভয়ংকর রূপ।
এখন প্রশ্ন একটাই— বুরাপাড়ার এই আগুন কি এখানেই থামবে, নাকি আবারও জ্বলে উঠবে সহিংসতার নতুন শিখা? উত্তর খুঁজছে পুরো মিরপুর, অপেক্ষায় পুরো কুষ্টিয়া।
