সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপপ্রচারের আগুনে নয়, সত্যের আলোয়—সম্মান রক্ষায় দৃঢ় কণ্ঠে ঠিকাদার ওসমান গনি

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অভিযোগ, অপপ্রচার আর বিভ্রান্তির ধোঁয়াশা ভেদ করে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো.ওসমান গনি। তাঁর প্রতিষ্ঠান ওসমান কনস্ট্রাকশন—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোয়াখালীর হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণের একটি দীর্ঘ, জটিল ও সংগ্রামী ইতিহাস।

২০২০ সালের ৭ডিসেম্বর ওয়ার্ক অর্ডার অনুমোদন এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে ড্রয়িং ও ইস্টিমেট অনুমোদন দেওয়া হয়।চুক্তিবদ্ধ হওয়া এই প্রকল্প শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতায় জর্জরিত। দ্বীপাঞ্চলের ভৌগোলিক দূরত্ব, হঠাৎ করে আঘাত হানা করোনা মহামারি, এবং সবচেয়ে বড় বিষয়—মডেল মসজিদ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে কাজের গতি বারবার থমকে দাঁড়ায়।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পূর্বনির্ধারিত জায়গা পরিবর্তন করে পুকুর ভরাট করে নতুন স্থানে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, প্রায় ১৪ ফুট বালু ভরাট করতে গিয়ে সময় ও ব্যয়ের চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। তাছাড়া নকশার পরিবর্তন—৮০ ফুট থেকে ১০০ ফুটে সম্প্রসারণ—প্রকল্পে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করে।

এই দীর্ঘ পথচলায় বারবার কাজ বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠলেও, ঠিকাদার ওসমান গনির ভাষ্য একেবারেই ভিন্ন। তাঁর দাবি— কাজ কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা কাজ চালিয়ে গেছি। অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালের উল্লেখিত নিউজে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করে নগদায়ন করে আইনকে ফাঁকি দিয়েছে। এ বিষয়ে ওসমান গণি বলেন, আমি আমার বাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রেখে লোন গ্রহণ করেছি । ইতোপূর্বে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পূর্ব তফসিল অনুযায়ী মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধ হচ্ছে। আমার সাথে ব্যাংকের কোনরকম দ্বন্দ নেই। তবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ অস্থায়ী মসজিদে নামাজ না পড়ে পুরাতন মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারতেন। প্রকৌশলী এমদাদুল হক মিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন মসজিদ নির্মাণ পুকুরের মধ্য হওয়ায় কারণে ১৪ ফিট বালু ভরাটের কারণে সময় বেশি লাগে। প্রাপ্ত কাঠামো নকশা অনুযায়ী ফাইলের পরিবর্তনের ডিজাইন ৮০ ফিটের স্থলে ১০০ ফিট করতে বাড়তি সময় নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন একাধিক ফাইল ড্রাইভ সম্ভব না হওয়ায় সময় বেশি লেগেছে। বেজমেন্টের ডিজাইন ক্যাপ অনুমোদন না থাকার কারণে গত ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকে। ওই তারিখে ক্যাপের ডিজাইনের অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে কাজ শুরু করে গ্রেটভিম পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়। উক্ত প্রকল্পের ডিজাইনের সাথে দরপত্রের তফসিলের আইটেম ও পরিমাপের কোন মিল না থাকার কারণে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। উক্ত গরমিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি ড্রয়িং ও ইস্টিমেট অর্ডার অনুমোদন হওয়ার পর কতৃপক্ষের সাথে ওই বছর ১৬ মার্চ চুক্তিবদ্ধ হই। এরপর পরপরই কাজটি শুরু করলেও বিগত সরকারের বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হয়েও কাজের অগ্রগতি বজায় রাখা হয়। সূত্র মোতাবেক কাজটি একমাস বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কাজটি চলমান এবং কখনো বন্ধ হয়নি। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ মিথ্যা ভাগ্য বানোয়াট বলে গণ্য।

উল্লেখ যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অনেক পরে মসজিদের স্থান পরিবর্তন হওয়ায় ড্রয়িং এস্টিমেট সর্বশেষ ২৪-২-২৪ দেওয়ায় ততক্ষণ বাজার মূল্য ৩৫ পার্সেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০২৩ সালের পিডব্লিউডি সিডিউল মোতাবেক প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পিপিআর ২০০৮ এর রুল ৩৯. ৪১. ৪৩. এর মতে যাহা সমাধান সম্ভব। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ সমাপ্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিকার চেয়ে গণপূর্তের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বরাবরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। এবং অনুলিপি প্রেরণ করেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী চট্টগ্রাম সার্কেল, প্রকল্প পরিচালক জেলা উপজেলা একটি করে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক শীর্ষক প্রকল্প ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কুমিল্লা গণপূর্ত সার্কেল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল ২/ গণপূর্ত সেগুনবাগিচা, ও জেলা প্রশাসক নোয়াখালী এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত উপবিভাগ ১/ ইএম নোয়াখালী।

এদিকে মো.ওসমান গনি বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও একাধিক নিউজ পোর্টালে তার বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। তবে কাজের মান ঠিক থাকলেও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেমে নেই। এতে মারাত্মকভাবে সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তবে সময়, কাজের ধীরগতি, ব্যাংক লোন বিস্তারিত সঠিকভাবে ওসমান গনি তুলে ধরেছেন। বর্তমানে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ করেছেন। দ্রুত অসমাপ্ত কাজ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।