ববি বেগম। ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বাক্প্রতিবন্ধী ববি বেগম হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ। রেলওয়ে ডিবি পুলিশ এবং নরসিংদী র্যাব-১১ ক্যাম্পের সহযোগিতায় ৯ ও ১০ জুলাই ভোর পর্যন্ত ঢাকা, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাকিব মিয়া (২০), ইলিয়াস হোসেন (৩৫), বিল্লাল মিয়া (২৫), দ্বীন ইসলাম (২৬) এবং রিফাত মিয়া (২০)।
ঢাকা, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই রাত প্রায় ২টার দিকে মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ববি বেগমের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে জমানো প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মারধরে তার চোখ, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাসপাতালে থাকতে অস্বস্তিবোধ করায় পরে আবার স্টেশনের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়। কিন্তু ৮ জুলাই রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানোর পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৭ জুলাই মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, ববি বেগম প্রায় ২৫ বছর ধরে মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৮ জুলাই ময়নাতদন্ত শেষে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান, ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানান, ঘটনার পর তিনি নিজে মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে আহত ববি বেগমের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১০ জুলাই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।
