বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাজেকে সপ্তম দিনেও অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে বাসিন্দারা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি-সংগৃহীত

পাঁচ দফা দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অচল হয়ে পড়েছে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা। পর্যটক না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার। অন্যদিকে, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবহন, আবাসন, খাবার ও বিপণন ব্যবসার সঙ্গে খাগড়াছড়ির বহু মানুষ যুক্ত। ফলে সাজেকের অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ওপরও।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা বলেন, সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহনই এখন অচল। এতে শত শত গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাঁদের পরিবারও কষ্টে রয়েছে। সাজেকের বাসিন্দারাও দুর্ভোগে আছেন। মানবিক বিবেচনায় অবরোধ কর্মসূচি শিথিল বা স্থগিত করা উচিত।

একসময় পর্যটকদের পদচারণে মুখর থাকা সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আয় থেমে গেছে। তবে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বহনের চাপ রয়েই গেছে। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সাজেকের বাসিন্দা মিন্টি মালা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ওষুধ সংগ্রহ ও রোগী পরিবহন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা মতবিনিময় সভা হয়। তবে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আসেনি।

কটেজ মালিক যুবরাজ মিয়া জানান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেছেন। তবে এখনো সংকটের সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে বিনোদনকেন্দ্র চালু রেখে কী হবে? তাঁর অভিযোগ, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে এখন অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দিতে পারে। তা করা হলে সাজেকবাসী অবরোধ তুলে নেবে।

সাজেকের অচলাবস্থায় একদিকে পর্যটন ও পরিবহন খাতের মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।