বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের তালিকায় নাম থাকার তথ্য ঘিরেও আলোচনা, জুনিয়র কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ। ফাইল ছবি
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান নিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত মো. তরিকুল ইসলাম। তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলীদের পেছনে ফেলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে সংস্থাটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএমডিএর সচিব গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা অফিস আদেশে উল্লেখ করেন, রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সমসের আলী ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অবসরজনিত ছুটিতে যাবেন। তাঁর স্থলে পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত মো. তরিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আদেশটির স্মারক নম্বর হিসেবে ১২.০৮.–২২.৬৪০৯ উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও পদমর্যাদার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তরিকুল ইসলামের চেয়ে জ্যেষ্ঠ এবং অভিজ্ঞ একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী বিএমডিএতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বাদ দিয়ে তরিকুল ইসলামকে সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ওয়েবসাইটে পদবি নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)
অনুসন্ধানে বিএমডিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তরিকুল ইসলামের পদবি নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর বর্তমান পদমর্যাদা, চাকরির জ্যেষ্ঠতা এবং দায়িত্ব প্রদানের প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের সর্বশেষ হালনাগাদ অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের একাংশের প্রশ্ন, নির্বাহী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রশাসনিক ও জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? একই সঙ্গে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের তালিকায় নাম
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের একটি তালিকায় ১৪ ও ১৮ নম্বর ক্রমিকে তরিকুল ইসলামের নাম ও ছবি থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা থাকলেও সংগঠনটির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রকৃতি এবং বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এর কোনো প্রভাব ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার পরিবর্তে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে চাকরিবিধি, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে তরিকুল ইসলামের দায়িত্বপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ভূমিকা রেখেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিএমডিএর অভ্যন্তরে অসন্তোষের অভিযোগ
তরিকুল ইসলামকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় বিএমডিএর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এ ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা জরুরি।
তবে দায়িত্ব প্রদানসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ অফিস আদেশ, প্রযোজ্য চাকরিবিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা পর্যালোচনা ছাড়া এ সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
মন্তব্য দিতে রাজি নন নির্বাহী পরিচালক
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-২) মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর পর তিনি কল ব্যাক করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
সব মিলিয়ে, বিএমডিএর রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান নিয়ে জ্যেষ্ঠতা, পদমর্যাদা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা ও কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে……..
