লাকি আখতার (৩০)। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় লাকি আখতার (৩০) নামে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় মায়ের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় তার দুই শিশুসন্তানকে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত লাকি আখতার উপজেলার গুনিয়াউক ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার রামনকুমার গ্রামের মো. সামসুল হুদার মেয়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম।
যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকির স্বামী শরীফ আহমেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে লাকি গুনিয়াউক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে গুনিয়াউক ইউনিয়নের সুবল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দুই দিন আগে তার স্বামী শরীফ আহমেদ ওই বাসায় আসেন।
শরীফ আহমেদ জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ির মালিককে খোঁজ নিতে বলেন।
দরজা খোলা, ভেতরে কাঁদছিল দুই শিশু
বাড়ির মালিক সুবল মিয়া জানান, ফোন পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে দেখেন দরজা খোলা। ঘরের ভেতরে দুই শিশু কাঁদছে। এরপর ভেতরের কক্ষে উঁকি দিয়ে দেখেন, সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে লাকির মরদেহ ঝুলছে। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সহকর্মীদের বক্তব্য
লাকির সহকর্মীরা জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাসায় ফিরে বিকেলের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বামীর দাবি
লাকির স্বামী শরীফ আহমেদ বলেন, আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীর কোনো মতবিরোধ বা পারিবারিক কলহ ছিল না। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিক্রিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, তাদের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এসব বিষয় নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম গণমাধ্যম কে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
