শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হরিলুটে’ বেহাল ডিএই’র মাশরুম প্রকল্প, অভিযোগের কেন্দ্রে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আকতার জাহান কাঁকন

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আকতার জাহান কাঁকন। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার, সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ থেকে অর্থ কেটে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য কাঙ্ক্ষিতভাবে বাস্তবায়িত না হলেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের একটি সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এর ফলে প্রকল্পের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

একাধিক সূত্রের অভিযোগ, পিডি কাঁকনের নেতৃত্বে প্রকল্পে অনিয়মের একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। ডিএই’র বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ও প্রভাবের দোহাই দিয়ে তিনি অনেকটা ‘রামরাজত্ব’ কায়েম করে চলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কৃষি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিজের পরিচয় বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন—এমন দাবিও করেছেন সূত্রগুলো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল দেশে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল কতটা পৌঁছেছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

গবেষণার নামে বছরে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ

খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ ও গবেষণার খাত দেখিয়ে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ টাকা করে ব্যয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের বিপরীতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মালামাল গ্রহণ দেখিয়ে বিল করা এবং হিসাব-নিকাশে কারসাজির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিডি ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের অভিযোগও করেছেন একাধিক সূত্র।

নারী উদ্যোক্তা ও কৃষকদের বরাদ্দে কাটছাঁটের অভিযোগ

প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো মাঠপর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা ও কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ভাতা ও প্রদর্শনী উপকরণের অর্থ থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগ।

রাঙ্গামাটি সদর, রাজস্থলী, বানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রকল্পের আওতায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তাঁদের অনেকে নামমাত্র প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রশিক্ষণার্থী ও কৃষি উদ্যোক্তা দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্রদর্শনী ও উপকরণের অর্থেরও পুরো অংশ তাঁদের হাতে না দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মাধ্যমে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা, বাড়ছে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে ধীরগতি ও তদারকির ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক কাজ শেষ হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি না থাকায় চাষি ও উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, সরঞ্জাম ক্রয় এবং মাঠপর্যায়ের বরাদ্দের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘দোসর’ পরিচয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন পিডি আকতার জাহান কাঁকন। সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বিতর্কিত ও দলীয় পরিচয়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের সরিয়ে যোগ্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্বে আনা হলেও কাঁকনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি এখনো মাশরুম সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বহাল রয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে ডিএই’র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বরাদ্দকৃত অর্থ, বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ ব্যয়, প্রদর্শনী, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় এবং মাঠপর্যায়ের কৃষক-উদ্যোক্তাদের দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ডের ভাবমূর্তি চরম ভাবে খুন্ন হচ্ছে পিডির আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে। কাজের স্থবিরতা,নির্ধারিত মেয়াদ ও সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পিডির তদারকির অভাব। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও মাঠপর্যায়ে সঠিক তদারকি না থাকায় চাষিদের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পাওয়া শুফল ভুগীরা বঞ্চিত হচ্ছে শুধু মাত্র পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে বলে জানা জায়। উল্লেখীত অভিযোগ এর বিষয়ে পিডি কাঁকনের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলে ফোনকল গ্রহণ করেননি। এজন্য তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য আকতার জাহান কাঁকনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তথ্য অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
নগর-মহানগর সর্বশেষ