চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়ংকর হুমকি, আমি রায়হান, যা বলি তা করি, বিদেশি নম্বর ঘিরে তদন্তে পুলিশ। প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামে এবার আলোচিত এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান’ পরিচয়ে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর ছেলে, মেয়ে ও নাতির লাশ সড়কে পড়ে থাকবে—এমন ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীর স্ত্রী মাহফুজা রুনা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
‘আমি রায়হান, যা বলি তা করি’
জিডিতে মাহফুজা রুনা উল্লেখ করেন, হোয়াটসঅ্যাপে তার স্বামীকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছেলে ও মেয়েকে মেরে ফেলা এবং পুরো পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হুমকিদাতা আরও বলেন—‘টাকা না দিলে মোজাফফরনগরে তোমার সঙ্গে আমার লোক থাকবে। কোথায় যাচ্ছ, কী করছ—সব দেখবে আমাদের লোকজন।
এরপর আরও ভয়ংকর হুমকি দিয়ে বলা হয়, ছেলেকে নিয়ে এসে মেরে ফেলা হবে। নিজেকে ‘রায়হান’ পরিচয় দিয়ে হুমকিদাতা বলেন, ‘আমি রায়হান, যা বলি তা করি। কালকের মধ্যে মেরে ফেলব। তোকে কে বাঁচায় আমি দেখব।
এমনকি কোনো ধরনের সুপারিশেও কাজ হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের লাশ নিয়ে কূল পাওয়া যাবে না—এমন ভাষায়ও ভয় দেখানো হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
আতঙ্কে ব্যবসায়ী পরিবার
ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘একের পর এক ফোন দিয়ে হুমকি দেয়। হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমরা ভয়ে আছি। হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি এখন কোনো রাজনীতি করি না, ব্যবসা করি।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। পুলিশ জিডির তদন্ত শুরু করেছে। কারা হুমকি দিয়েছে, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রামে পরপর চাঁদা দাবির অভিযোগ
চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একাধিক ঘটনায় একই ধরনের হুমকি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে ১১ আগস্ট নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের ফটকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এর আগে দুপুরে ভবন মালিকের ছেলের হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে এক ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে রাতে ভবনটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তারও আগে ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একই চক্রের বিরুদ্ধে।
হুমকির শিকার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ
এদিকে হুমকির শিকার ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও মোজাফফরনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়ানোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা আইনগত অবস্থান এই প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকির ঘটনায় কারা জড়িত—তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
