মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১২৭ কোটির স্বপ্ন না অন্ধকারের জাল? শামীম রেজাকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক,উন্নয়নের নামে নীরব দুর্নীতির প্রেমকাহিনি(ফলোয়াপ পর্ব -২)

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শামীম রেজা ফাইল ছবি: সংগৃহীত

গাংনী পৌরসভা—কাগজে আঁকা এক স্বপ্নের শহর। ১২টি প্রকল্প, প্রায় ১২৭ কোটি টাকার বিশাল বাজেট, আর প্রতিশ্রুতি—একটি আধুনিক নগর গড়ে তোলার। কিন্তু এই স্বপ্নের আড়ালে যেন লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য অন্ধকার, যেখানে উন্নয়ন আর অনিয়ম হাত ধরাধরি করে হাঁটছে এক রহস্যময় সম্পর্কের মতো।

গত ৭ এপ্রিল গণমাধ্যমে পৌর প্রকৌশলী শামীম রেজাকে ঘিরে অভিযোগ প্রকাশের পরও প্রশাসনের নীরবতা যেন আরও গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই নীরবতা কি নির্দোষতার প্রতীক, নাকি গোপন কোনো অপরাধের সাথে এক নীরব বোঝাপড়া? উত্তর খুঁজছে গাংনীর মানুষ, উত্তর খুঁজছে সময়।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা একদিন আধুনিক শহরে রূপ নেবে—এমন প্রতিশ্রুতি ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই স্বপ্ন যেন কোথাও গিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিশাল বাজেট নতুন আশার আলো জ্বালালেও বাস্তবতা যেন বারবার সেই আলো নিভিয়ে দিচ্ছে।

ড্রেন, রাস্তা, পার্ক, মার্কেট, গোরস্থান, পাবলিক টয়লেট—সবই আছে পরিকল্পনায়। কিন্তু বাস্তবে?
কিছুদিনেই ভেঙে পড়া রাস্তা, অকার্যকর ড্রেনেজ, বর্ষায় পুরনো জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে উন্নয়ন যেন এক ক্ষণস্থায়ী প্রেম, যা শুরুতেই হারিয়ে যায় ভাঙনের অন্ধকারে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক উঠেছে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ নিয়ে। এমন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে অনেকগুলো টয়লেট, যেখানে মানুষের চলাচলই নেই। যেন মানুষের প্রয়োজন নয়, বরং কাগজে প্রকল্প দেখানোর জন্যই তৈরি এই অবকাঠামো। ফলে এগুলো এখন নিঃসঙ্গ, পরিত্যক্ত—একটি ব্যর্থ সম্পর্কের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

এদিকে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রেও অভিযোগ কম নয়। রসিদ ছাড়া টাকা আদায়, দ্রুত কাজের জন্য ঘুষের প্রয়োজন—এসব অভিযোগ যেন পৌরবাসীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। টাকা দিলে সেবা, না দিলে অপেক্ষা—এই বাস্তবতা যেন এক নিষ্ঠুর বাস্তব প্রেমের গল্প, যেখানে ভালোবাসার বদলে চলে স্বার্থের লেনদেন।

নাগরিক সেবার ক্ষেত্রেও অভিযোগ কম নয়। রসিদ ছাড়া টাকা আদায়, দ্রুত কাজের জন্য ঘুষের প্রয়োজন—এসব অভিযোগ যেন পৌরবাসীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। টাকা দিলে সেবা, না দিলে অপেক্ষা—এই বাস্তবতা যেন এক নিষ্ঠুর বাস্তব প্রেমের গল্প, যেখানে ভালোবাসার বদলে চলে স্বার্থের লেনদেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পৌর প্রকৌশলী শামীম রেজা। তাদের দাবি, তার তদারকির ঘাটতি ও কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতার অভাব—যা পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এরই মধ্যে গত ২২ মাসে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন নতুন করে সন্দেহ জাগিয়েছে। এই পরিবর্তন কি কেবলই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প?
যদিও শামীম রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি—সব কাজই নির্ধারিত মান বজায় রেখে করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—তাহলে বাস্তবতার এই ভাঙাচোরা চিত্র কেন?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি—ভয়ের কারণে অনেকেই লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পান না। তাই প্রশাসনের উচিত নিজ উদ্যোগে তদন্ত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন কেবল টাকার অঙ্ক নয়—এটি মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা এক অনুভূতি, এক বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস যখন ভেঙে যায়, তখন উন্নয়ন আর স্বপ্ন থাকে না—থাকে শুধু হতাশার দীর্ঘশ্বাস।

আজ গাংনী পৌরসভা দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে— এই ১২৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কি সত্যিই মানুষের জীবন বদলাচ্ছে, নাকি এটি শুধুই কাগজে লেখা এক রোমাঞ্চকর কিন্তু মিথ্যা গল্প কাহিনী?

পৌরবাসীর একটাই দাবি— নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, সত্য সামনে আসুক। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি হোক।
কারণ, সত্যিকারের উন্নয়ন কারণ, সত্যিকারের উন্নয়ন সেইটিই— যা মানুষের জীবনে স্বস্তি আনে, দুর্ভোগ নয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।