ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি-সংগৃহীত
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) যেন হঠাৎই রূপ নিল অভিযানের মঞ্চে। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সোমবার সকালেই শুরু হয় নাটকীয় অভিযান—আর তাতেই ধরা পড়ে ৪৫ জন।
গোপন নজরদারির পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনে হানা দেয়। মুহূর্তেই চিত্র বদলে যায়—চারদিকজুড়ে চাঞ্চল্য, উদ্বেগ আর আতঙ্ক।
আটকদের মধ্যে ছিলেন পাঁচজন নারী এবং ১৯ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। ঘটনাস্থলেই পরিচালিত মোবাইল কোর্টে চার দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি ৪১ জনকে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাসুদ আলম, যিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আটকের খবরে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। শতাধিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যালায়েন্স (ফারিয়া)-এর চেয়ারম্যান এস এম এম রহমান জানান, এটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির ফল। নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে দুদিন—সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালে প্রবেশ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য যে, ঢামেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে দালালচক্রের উপস্থিতি নতুন নয়—তবে এমন অভিযানে আবারও সামনে এলো সেই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। প্রশ্ন এখন একটাই—এই অভিযান কি স্থায়ী সমাধানের পথ খুলবে, নাকি আবারও আড়ালে ফিরে যাবে দালালদের ছায়া?
