বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রবাসের ভালোবাসা থেকে প্রতারণার ফাঁদ: ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও স্বামী, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আজ অসহায়

এস এম বাদল
মে ৫, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৌদি আরবে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে—দেশে আগেই ছিল আরেক সংসার! কোলে শিশু, গর্ভে আরেক সন্তান নিয়ে বিচার চাইছেন খাদিজা। ফাইল ছবি

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কুশাবাড়ি গ্রামের ছেলে আরিফুল ইসলাম। প্রায় এক যুগ আগে দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরব। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজের ভাগ্য বদলানো এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল এক ভয়ংকর প্রতারণার গল্প, যার শিকার হয়েছেন তারই স্ত্রী সুনামগঞ্জের মেয়ে আখলিমা আক্তার খাদিজা।
প্রতারক স্বামী

প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতায় তাদের পরিচয়। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে ভালোবাসা, আর ২০১৯ সালে পরিণয়। মরুভূমির দেশেই ছোট্ট পরিসরে গড়ে ওঠে তাদের সংসার। ভালোবাসার পূর্ণতায় জন্ম নেয় কন্যা সন্তান তানিশা আক্তার মিম।

কিন্তু সুখের সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী আরিফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী খাদিজার বিশ্বাসকে পুঁজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কখনো দেশে বাড়ি নির্মাণের কথা বলে, কখনো জমি সংক্রান্ত কাজের অজুহাতে, আবার কখনো দেশে ফেরার প্রয়োজন দেখিয়ে একের পর এক টাকা নিয়েছেন তিনি।

স্বামীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকে খাদিজা তার সঞ্চয়ের প্রতিটি টাকাই তুলে দিয়েছিলেন আরিফের হাতে—ভেবেছিলেন, এটাই তাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।
কিন্তু হঠাৎই সামনে আসে এক নির্মম সত্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে আরিফের আগে থেকেই একটি স্ত্রী ও সংসার রয়েছে। সেই তথ্য গোপন রেখেই প্রবাসে খাদিজার সঙ্গে গড়ে তোলেন আরেকটি সম্পর্ক, যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় প্রতারণায়।

বর্তমানে খাদিজার কোলে ছোট্ট শিশু মিম, আর গর্ভে আরেকটি অনাগত সন্তান। জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়ে তাকে একা ফেলে আত্মগোপনে চলে গেছেন আরিফ।

যে মানুষটির হাত ধরে জীবন পার করার স্বপ্দ দেখেছিলেন, সেই মানুষটিই আজ তাকে ঠেলে দিয়েছেন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। খাদিজার প্রশ্ন—
আমার অপরাধ কী ছিল? স্বামীকে বিশ্বাস করা?
আজ তিনি শুধু অর্থ ফেরত চান না; তিনি চান প্রতারণার বিচার, বিশ্বাসভঙ্গের জবাব।

কোলে সন্তান আর গর্ভে নতুন প্রাণ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক অসহায় মা। তার এই আর্তনাদ কেবল ব্যক্তিগত নয়—এ যেন সমাজের অসংখ্য প্রতারিত নারীর প্রতিচ্ছবি। তানিশা আক্তার মিমের ভবিষ্যৎ এবং অনাগত শিশুর নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে।

সমাজের কাছে প্রশ্ন রেখে খাদিজা বলেন, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার কি নিশ্চিত করা যাবে?
একজন প্রতারকের কারণে আর কত স্বপ্ন ভাঙবে?
খাদিজার এই কান্না থামাতে, তার মতো অসংখ্য নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা।

উল্লেখ্য যে, আজ সমাজপতিদের এগিয়ে আসা উচিত, একজন খাদিজার করুন আর্তনাদ থামাতে।খাদিজার সরল স্বীকারোক্তি বলে দেয়, বিশ্বাস করা কি অপরাধ। তবে সবার খেয়াল রাখা উচিত খাদিজার মতো আর যেন কানে ভেসে না বোবা চিৎকার।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।