কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের চক ঘোগা পশ্চিম পাড়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এক অসহায় কৃষক। বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাহাদুর বিশ্বাসের বসতবাড়ি, সাথে তার জীবনের সঞ্চয়, স্বপ্ন আর সংগ্রামের প্রতিটি চিহ্ন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ছোট একটি স্ফুলিঙ্গ, আর তারপরই যেন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো ঘর। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করে নেয় পুরো বাড়ি।

গ্রামের মানুষ ছুটে এসে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সব শেষ। আগুনে পুড়ে যায় বসতবাড়ির আসবাবপত্র, নগদ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরনের কাপড়সহ সবকিছু। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় আট লক্ষাধিক টাকা।
অগ্নিদগ্ধ হৃদয়ে ভেঙে পড়া বাহাদুর বিশ্বাস জানান,
প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলাম। কয়েকদিন আগে নিজের জমির তামাক বিক্রি করে কিছু টাকা ঘরের আলমারিতে রেখেছিলাম। সেই টাকা, জমিজমার কাগজ—সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই আর রইলো না…।
তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে পুরো ঘর গ্রাস করে ফেলে।
এ ঘটনায় একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই কৃষক। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে। কণ্ঠে অসহায়তার সুর—
“আমি একজন গরিব কৃষক, সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই…।
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি ঘর পুড়িয়ে দেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে এক পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের ভরসা। এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের জরুরি সহায়তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
