জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কড়া আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।
বুধবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উত্তপ্ত সেই আলোচনায় শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস আর মেনে নেওয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা,
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ,
নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার,
নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও কুইক রেসপন্স টিমে অন্তর্ভুক্তি,
শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত এক মাসে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দ্বারা চার থেকে পাঁচটি হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটেছে ধর্ষণচেষ্টার মতো ভয়াবহ ঘটনা। তাঁর ভাষায়,
“নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রক্টোরিয়াল বডির। কিন্তু প্রক্টর যখন দায় এড়িয়ে অন্যদের দিকে প্রশ্ন ঠেলে দেন, তখন আমরা বুঝে যাই—এই প্রক্টরিয়াল বডি ব্যর্থ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে তাদের পদত্যাগ করতেই হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ
কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান সম্ভব, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে।
রাতভর উত্তেজনা, ক্ষোভ আর নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় থমথমে ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের একটাই প্রশ্ন—আর কত ঘটনার পর মিলবে নিরাপদ ক্যাম্পাস?
