অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ঘনিষ্ঠ এক সাবেক কমিশনারের বিতর্কিত জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে পর্দার আড়ালে সংঘটিত হয়েছে কোটি টাকার প্রভাব ও ঘুষের এক রহস্যময় লেনদেন।
সূত্র বলছে, প্রথমদিকে কাগজপত্রে জটিলতা, আইনি বাধা এবং “উচ্চ পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা”র কথা বলে দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানান খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। এমনকি সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি দাবি করেন, আইন উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকায় এই দলিল অনুমোদন সম্ভব নয়।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে হঠাৎ বদলে যায় দৃশ্যপট। অভিযোগ রয়েছে, পর্দার আড়ালে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের পর গোপনে সম্পন্ন করা হয় সেই বহুল আলোচিত দলিল রেজিস্ট্রেশন। যে দলিল একসময় “ঝুঁকিপূর্ণ” ও “আপত্তিকর” বলে আটকে রাখা হয়েছিল, রহস্যজনকভাবে সেটিই পরবর্তীতে অনুমোদন পেয়ে যায়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—আইনের কঠোর অবস্থান কি রাতারাতি বদলে গেল, নাকি টাকার ঝলকানিতে নত হয়েছে প্রশাসনিক সততা?
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, এটি কেবল একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা নয়; বরং প্রভাব, রাজনৈতিক আশ্রয়, ঘুষ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়ংকর এক প্রতিচ্ছবি। তাদের ভাষ্য, সাধারণ মানুষ যেখানে একটি বৈধ দলিল সম্পন্ন করতে মাসের পর মাস ঘুরে হয়রানির শিকার হন, সেখানে প্রভাবশালী মহলের জন্য গোপন দরজা খুলে যায় টাকার বিনিময়ে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক এক শক্তিশালী দুর্নীতির নেটওয়ার্ক, যেখানে আইনের চেয়ে প্রভাব ও অর্থই বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য যে, মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লার ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রার অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অচিরেই দুর্নীতি দমন কমিশনে শাস্তির দাবিতে অভিযোগ দাখিল করবেন বলে গণমাধ্যমে কে নিশ্চিত করেছেন।
খিলগাঁও ৭৪ নং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার কালাম ও আজিজ গংদের জমি রেজিস্ট্রি করেছেন। বিস্তারিত থাকতে পরের সংখ্যায়।
চলবে…….
