বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরিদা আখতারের দাবি: বিএনপি-জামায়াতের মতামত নিয়েই হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার
মে ১৩, ২০২৬ ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

হাওরে বোরো চাষে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

ফরিদা আখতারের দাবি: বিএনপি-জামায়াতের মতামত নিয়েই হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই ওই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। তাই এখন পর্যন্ত বড় কোনো রাজনৈতিক দলকে এ চুক্তির প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নয়াকৃষি আন্দোলন ও উবিনীগ আয়োজিত ‘হাওরে বোরো চাষে সেচ ও যান্ত্রিকীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ফরিদা আখতার বলেন, জনগণের স্বার্থে চুক্তিটি সংসদে উত্থাপন করে খোলামেলা আলোচনা হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, “চুক্তিটি স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর কার্যকর হওয়ার কথা। তাই এখনই সময়—এটি সংসদে তুলে জনগণের মতামত নেওয়ার। প্রয়োজনে সংশোধন কিংবা বাতিলের সুযোগও রয়েছে।

“হাওরের ক্ষতি মানুষই করেছে”

আলোচনার একপর্যায়ে হাওরাঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়, বন্যা ও কৃষি সংকট নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও জলবায়ুর ক্ষতির জন্য দায়ী মানুষই। তথাকথিত ‘সবুজ বিপ্লব’-এর নামে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প, অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণ হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তার ভাষায়, সবুজ বিপ্লব যদি এত সফলই হতো, তাহলে এখনও মানুষ খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয় কেন?

তিনি আরও বলেন, নদ-নদী ও জলাশয়ে অপরিকল্পিত বাঁধ দেওয়ার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পলির পরিবর্তে বালু জমে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে বাঁধ নির্মাণে স্লুইসগেটসহ বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

“হাওরকে হাওরের মতো থাকতে দিন”

সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “হাওরকে হাওরের মতো চলতে দিতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট করে উন্নয়নের নামে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করলে বিপর্যয় আরও বাড়বে।

বিএডিসির গবেষণা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়েই টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, মানুষের লোভ, মুনাফাকেন্দ্রিক উন্নয়ন চিন্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। স্থানীয় কৃষক ও হাওরবাসীর মতামতের ভিত্তিতে অঞ্চলভিত্তিক কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

বক্তারা আরও বলেন, হাওরের বোরো ধান উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের উন্নয়ন নীতি ও প্রকল্প নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে কার উপকার হচ্ছে আর কার ক্ষতি হচ্ছে—তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক প্রতিনিধি ও সংগঠকরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।