অন্ধকারের বিরুদ্ধে এক সাহসী যোদ্ধার নাম—মুগদা থানার এএসআই মোঃ আমিরুল ইসলাম। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অসাধারণ সাহসিকতা, দায়িত্বনিষ্ঠা এবং মানবিক পুলিশিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এ তিনি অর্জন করেছেন গৌরবের ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ তথা আইজিপি পদক।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ড যেন গর্ব আর সম্মানের এক আবেগঘন মঞ্চে পরিণত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিজ হাতে এএসআই আমিরুল ইসলামের বুকে পদক পরিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে সহকর্মীদের করতালি আর প্রশংসায় ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত এক বছরে মুগদা থানা এলাকায় একের পর এক সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন এএসআই আমিরুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীকেও ঝুঁকি নিয়ে গ্রেফতার করেন তিনি।
বিশেষ করে একটি রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অস্ত্রধারী মাদক কারবারিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটক করে তিনি দেখিয়েছেন বিরল সাহসিকতা। সহকর্মীদের ভাষায়, “দায়িত্ব পালন যেন তার কাছে শুধু চাকরি নয়, মানুষের নিরাপত্তার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা।
পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এএসআই মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন,
এই সম্মান শুধু আমার একার নয়, মুগদা থানার প্রতিটি সহকর্মীর। আইজিপি স্যারের হাত থেকে পদক গ্রহণ আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও সাহসী, আরও মানবিক হয়ে দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেবে। আমরা মাদকমুক্ত, নিরাপদ সমাজ গড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সততা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার কারণে ইতোমধ্যেই মুগদা এলাকায় একজন নির্ভরযোগ্য ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এএসআই আমিরুল ইসলাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তার আচরণ আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ।
প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের অসাধারণ অবদান ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং আইজিপি এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ প্রদান করা হয়। এবারের আয়োজনে সেই সম্মাননার উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠলেন মুগদা থানার সাহসী পুলিশ সদস্য এএসআই মোঃ আমিরুল ইসলাম।
