সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: সংগৃহীত
যতদিন পর্যন্ত সরকার সেনাবাহিনীকে মাঠে কাজ করার জন্য চাইবে, ততদিন পর্যন্ত সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমানে সেনাবাহিনী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ডেপ্লয়ড রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে এ দায়িত্ব পালন শুরু হয়েছে এবং এখনো তা চলমান। তিনি জানান, দেশের ৬২টি জেলায় প্রায় ১৬–১৭ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সদস্য প্রত্যাহার করা হলেও এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি। শিগগিরই সবাই ব্যারাকে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়। সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ফুয়েল ডিপোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো ক্যান্টনমেন্টে ফিরে গিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ফায়ারিং অনুশীলন সেই প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাদের ফায়ারিং দক্ষতা সন্তোষজনক রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
অনুষ্ঠানের শেষে সেনাপ্রধান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও), বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন ফরমেশনের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
