রানওয়ে লাইটিং থেকে সাব-স্টেশন—১৫ বছরে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দায়ের করা এক বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) শুভাশীষ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত দেড় দশক ধরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে লাইটিং, ট্যাক্সিওয়ে লাইটিং, সাব-স্টেশনসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শাওন ইলেক্ট্রিক, দুলাল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স আতিক কনস্ট্রাকশনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক অনুমোদন থেকে শুরু করে টেন্ডার মূল্যায়ন, ডেভিয়েশন অনুমোদন এবং বিল পরিশোধ—প্রতিটি ধাপেই গড়ে তোলা হয়েছিল কমিশননির্ভর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগে বলা হয়, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বছরের পর বছর প্রকল্প বাণিজ্য চালিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামও অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সিএএবির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—এমন গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই শুভাশীষ বড়ুয়ার নাম এখন প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির আলোচনায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাকে পদোন্নতি না দিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুভাশীষ বড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
