“জনগণ পাশে থাকলে বদলাবে ঢাকা”— পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরের রোডম্যাপে জোড়ালো উক্তি আবদুস সালাম এর।
স্বপ্ন, প্রত্যয় আর পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা নিয়ে রাজধানী ঢাকাকে আগামী দুই বছরের মধ্যে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তার কণ্ঠে ছিল আশার দীপ্তি, আর কথায় ছিল একটি সুন্দর ঢাকাকে ঘিরে ভবিষ্যতের রঙিন কল্পনা।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ ভবনে আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন!’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য, নাগরিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ঢাকাকে নতুন রূপে সাজাতে। সেমিনারটির আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের গণমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত, আবর্জনাময় ও মশার উপদ্রবে জর্জরিত শহর হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এই শহরকে ঘিরেও রয়েছে সম্ভাবনার অসীম আলো। জনগণ ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে এই নগরী আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তার ভাষায়, ঢাকা শুধু ইট-পাথরের শহর নয়, এটি কোটি মানুষের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর জীবনের গল্পে গড়া এক প্রাণের নগরী।
সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া সরকারকে কাজের সুযোগ ও সময় দিতে হবে। অস্থিরতা, সংঘাত কিংবা প্রতিহিংসা নয়—ইতিবাচক মনোভাব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে রাজধানীর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।
তিনি আরও বলেন, “নগরকে বদলাতে হলে আগে বদলাতে হবে আমাদের মানসিকতা। নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলেই ঢাকা হয়ে উঠবে আরও সুন্দর ও আরো মানবিক।
ধানমন্ডিতে গড়ে উঠছে ‘নজরুল চত্বর’
একই দিন রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় “নজরুল চত্বর” নামে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি জানান, ঈদের পরই এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, যেখানে সংরক্ষিত থাকবে নজরুলের সাহিত্য, গান, নাটক, প্রবন্ধ এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার। গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকবে অধ্যয়ন ও গবেষণার বিশেষ সুযোগ।
জাতীয় কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও মানুষের হৃদয়ে বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার আলো জ্বালিয়ে রাখে।
শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের কাছে তিনি অনুপ্রেরণার এক অনন্ত নাম। অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদের যে আগুন নজরুল জ্বালিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
