ফাইল ছবি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গভীর রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৩১৯ বোতল ফেন্সিডিল এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান চক্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
তিনি জানান, উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত ১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন বড় হোগলডোরা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৩৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৩১৯ বোতল ফেন্সিডিল এবং অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধ জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ফেন্সিডিল ও ঔষধের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তে আবারও চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন, গভীর রাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিদেশি ঔষধের মজুদ পাওয়া সীমান্ত এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের তৎপরতার ইঙ্গিত বহন করছে। প্রশ্ন উঠেছে, কারা এই চালানের সঙ্গে জড়িত এবং কারা এর মূল হোতা?
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকার কিছু দুর্গম খাল ও জলপথকে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দেশের সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাড়ছে উদ্বেগ, জোরদার হচ্ছে নজরদারির দাবি
এক অভিযানে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার মাদক ও অবৈধ ঔষধ জব্দ হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু মাদক জব্দ করাই নয়, এর পেছনের মূল চক্র ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়।
