মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেখ হেলালের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ: গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৩০, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২৮তম বিসিএস ব্যাচের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খুলনার আলোচিত ‘শেখ বাড়ি’র আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলালের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ও কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত শত শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সকল রসদ সরবরাহ ও অর্থায়নের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পর অমিত কুমার বিশ্বাসের প্রথম কর্মস্থল ছিল খুলনা। কর্মজীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (গণপূর্ত বিভাগ-১) হিসেবে খুলনায় দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় একই এলাকায় কর্তৃত্ব বজায় রাখেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার প্রভাবের কারণে অনেক কর্মকর্তা সেখানে পদায়ন নিতে অনাগ্রহী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, খুলনা বিভাগ-১, বিভাগ-২ এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দীর্ঘ সময় তার নিয়ন্ত্রণে ছিল, যার তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM)-এর মাধ্যমে আহ্বান করে তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেন। একই সঙ্গে যুবলীগ নেতা শেখ শাহাজালাল সুজন, সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী এবং শেখ হেলালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দাউদ নামের এক ঠিকাদারকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, খুলনা মেডিকেল কলেজের একাধিক ভবন নির্মাণকাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হতো, যার একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন অমিত কুমার বিশ্বাস। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ-সংক্রান্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজে পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়। এছাড়া টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবনের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে তাকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বদলির পরও তার কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আসেনি। প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (LTM)-এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট টেন্ডারের আইডিগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1082830, 1078462, 1078463, 1072870, 1072103, 1072880, 1072852, 1071872, 1070585, 1066538, 1067779, 1067780 এবং 1070581।

ভারতে ‘সেকেন্ড হোম’, অর্থপাচার ও সম্পদের পাহাড়—অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অমিত কুমার বিশ্বাসের ভারতে একটি ‘সেকেন্ড হোম’ রয়েছে এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচারের পাশাপাশি তার দ্বৈত নাগরিকত্বও থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের মধ্যে রয়েছে—

খুলনা সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় একটি ৬ তলা ভবন।

খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘের।

ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দুটি ফ্ল্যাট।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকের ১২ নম্বর রোডে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

গাজীপুরে রিসোর্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা প্রায় ১০ একর জমি।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং অর্থপাচারের অভিযোগে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আবার অমিত কুমার বিশ্বাসকে ঘিরে টেন্ডার সিন্ডিকেট, কথিত অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে আরও তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ