তিন দিনের টানা শুনানি শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ; তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে অপেক্ষা দেশের। ফাইল ছবি
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার দিকে এখন সবার দৃষ্টি।
শুনানির শেষ দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল পঞ্চদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানান। এর আগে সোমবার সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য পক্ষ তাদের শুনানি শেষ করেন।
বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া আদালতে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী ছিল “প্রতারণা”। তাই এটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হলেও সংবিধানের ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা বহাল রাখার আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির আপিল বিভাগে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব অংশ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো বাতিল করা হোক এবং বাকি বিষয়গুলো সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক।
এর আগে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন।
প্রায় ১৫ বছর আগে, ২০১১ সালের ৩০ জুন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয় এবং সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সম্ভাবনা তৈরি হলেও কিছু সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা থেকে যাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পৃথকভাবে আরও দুটি আপিল করেন।
এখন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—আপিল বিভাগের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কী অবস্থান আসে—সেই উত্তর মিলবে বৃহস্পতিবারের রায়ে।
