ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতার দাবি, নকশা অনুমোদন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ—সবখানেই অনিয়মের অভিযোগ। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ৪/২-এর পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেআইনিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন সহকারী এবং একদল দালালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেট ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা, নকশা অনুমোদন, বিভিন্ন ধরনের ছাড়পত্র প্রদান, ভবন উচ্ছেদের পর পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সূত্রগুলোর দাবি, গুলশান এভিনিউ রোডের পূর্ব পাশ, প্রগতি সরণীর পূর্ব পাশ, বাড্ডা আনন্দনগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আফতাবনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটটির প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদামতো অর্থ প্রদান করলে ঝুঁকিপূর্ণ বা নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণে আর কোনো বাধা থাকে না। তবে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে একের পর এক নোটিশ, এমনকি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়া হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ভবনের অনিয়মিত অংশ সম্পূর্ণ অপসারণ করে নিজ খরচে কাজ শেষ করার পর পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাস্তবে অর্থের বিনিময়ে এসব নিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর বাড্ডার সাতারকুল সি ব্লকের একটি ভবনের উদাহরণ তুলে অভিযোগ করা হয়েছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবনের একটি অংশ ভেঙে বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় তিন লাখ টাকার বিনিময়ে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপক অভিযোগ করেন, একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন করার পর বিভিন্ন অজুহাতে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে সব জটিলতা নিরসনের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমতল মাতৃভূমি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং আপডেট অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা রাজউক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
তবে এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে………
