এক মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান; অন্যথায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটের ঘোষণা। রাজধানী ঢাকা শহর (ফাইল ছবি)
রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের দুই সচিব এবং রাজউক চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। নোটিশে বলা হয়েছে, এক মাসের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।
রোববার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে এ জনস্বার্থমূলক আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগরের পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্যাপ প্রণয়ন করলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনাটি কার্যকর হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এর ফলে রাজধানীতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রণীত এই মহাপরিকল্পনার বর্তমান বাস্তবায়ন পরিস্থিতি জানতেই মূলত আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছোট ছোট আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পও স্থবির হয়ে পড়েছে।
আইনজীবীর ভাষ্য, পরিকল্পিত ঢাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসংখ্য শুনানি ও কর্মশালা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারে না, জরুরি রোগীকেও হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ড্যাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, ঝড়, অতিবৃষ্টি ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্যাপের সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না।
উল্লেখ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের আগস্টে ড্যাপ (২০২২–২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লকভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বৃদ্ধি, ভবনের উচ্চতা ও প্রশস্ততার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল করা হয়।
