বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দের লাখ লাখ টাকার ব্যয়ে প্রশ্ন

মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি
জুলাই ১৫, ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বহু ক্ষেত্রে সেই অর্থ কাগজে-কলমে আসবাবপত্র কেনা, পুরোনো সামগ্রীকে নতুন দেখিয়ে বিল উত্তোলন এবং নীতিমালার বাইরে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, গাংনী উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ভোটকেন্দ্র সংস্কার বাবদ ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বরাদ্দের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ছিল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দেড় লাখ টাকার বিল অনুমোদনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় বিল অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতারও শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে গাংনীর সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান বাউন্ডারি ওয়ালের ওপর অতিরিক্ত এক ফুট ওয়াল নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রয়ের বিল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুর রশিদ বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় বরাদ্দের অর্থ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতেও ব্যয় করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় না হলে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। কারণ এই বরাদ্দের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের জন্য নিরাপদ, উপযোগী ও মানসম্মত ভোটগ্রহণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। অথচ সেই অর্থ যদি অন্য খাতে ব্যয় করা হয় বা কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়, তবে তা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি জনআস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাংনীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ভোটকেন্দ্র সংস্কার কার্যক্রম তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও এ বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়নি। তিনি বলেন, বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ও কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—সেই হিসাব চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।