শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুয়া বিল-ভাউচারের কারসাজি, অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় এলজিইডির পিডি আব্দুর রাজ্জাক

মোঃ আবদুর রহমান
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (টাঙ্গাইল)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আব্দুর রাজ্জাক-এর বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়ের ব্যয় দেখিয়ে বিভিন্ন বিল-ভাউচার উপস্থাপন করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টা বা আত্মসাত করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে এলজিইডির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে দায়িত্বহীন অবস্থায় থাকার পর তিনি টাঙ্গাইলের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের প্রায় ৮৩ শতাংশ কাজ সাবেক প্রকল্প পরিচালক মোল্লা মো. মিজানুর রহমান-এর সময়েই সম্পন্ন হয়। পদোন্নতির কারণে তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকল্পের দায়িত্ব মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পর মো. আব্দুর রাজ্জাক সাবেক প্রকল্প পরিচালকের সময়কার বিভিন্ন ব্যয়ের নামে একাধিক বিল-ভাউচার দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা কয়েকটি বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, অথচ বিলগুলোতে তার আগের বিভিন্ন তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

. ৮ আগস্ট ২০২৫ — ২৩,৬০০ টাকা ও ২৪,৮০০ টাকা

. ২৭ আগস্ট — ২৪,৬০০ টাকা

. ১০ সেপ্টেম্বর — ২৪,৭৮০ টাকা

. ৬ অক্টোবর — ৫,৯৪০ টাকা

. ১৩ অক্টোবর — ৭,৭০০ টাকা

. ২৩ অক্টোবর — ৮,০২০ টাকা

. ৩ নভেম্বর — ৯,৮৬০ টাকা

. ২৩ নভেম্বর — ৮,০০০ টাকা

. ২৪ নভেম্বর — ৬,১৬০ টাকা

এসব বিল-ভাউচার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এমন তো হওয়ার কথা না। হয়তো ভুলে আগের তারিখ লেখা হয়েছে। তবে একাধিক ভাউচারে একই ধরনের অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে কোনো পণ্য ক্রয় ছাড়াই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় অর্থ ছাড় করাতে তিনি টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন।

আরও অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় এস্টিমেট ও রিভাইজড অনুমোদন না দেওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসব অনিয়মের বিষয়ে আরও আপডেট তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে বিস্তারিত পরবর্তীতে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।