বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
বিএডিসির একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রভাব বিস্তার করেন এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, বীজ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে ক্রয়, বীজ সংগ্রহ, বিতরণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজের পদায়ন নিশ্চিত করেন নুরুল ইসলাম। পরে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগেও কমিশন ও টেন্ডার বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব বাড়ি, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করা উচিত।
