বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলজিইডি ময়মনসিংহে দুর্নীতির অভিযোগ: তিন মাসেও নেই দৃশ্যমান তদন্ত, বদলি-অবসরে দায়মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

মামুনুর রশীদ মামুন
জুলাই ২৯, ২০২৬ ২:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কথিত ‘৩% কমিশন বাণিজ্য’, প্রকল্প পরিদর্শনে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় তিন মাস পার হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত বা কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল সমতল মাতৃভূমি’র অনলাইন পোর্টাল-এ এলজিইডি ময়মনসিংহে বিল বাণিজ্যের অভিযোগ: কমিশন, সাইট অনিয়ম ও নীরবতার সংস্কৃতি—উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি- শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে অডিও রেকর্ড, বিলসংক্রান্ত নথি এবং ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে অভিযোগ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো তদন্তের অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ শতাংশ কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্প ও মেরামত কাজের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কথিত ৩ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, অডিটের অজুহাত কিংবা বিল ছাড়ে বিলম্বের মুখে পড়তে হতো।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল-এর নির্দেশে কার্যালয়ের তৎকালীন হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম বিল ছাড়ের আগে এই অর্থ সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা নির্দিষ্টভাবে বণ্টন করা হতো বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

প্রকল্প তদারকি ও নথি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে—

সরেজমিনে উপস্থিত না হয়েই প্রকল্প পরিদর্শনের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হতো।

উৎকোচ না দিলে নেতিবাচক পরিদর্শন প্রতিবেদন দিয়ে ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) এবং চুক্তিপত্র সম্পাদনের বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো বলে অভিযোগ।

সরকারি রোলারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ না দিলে অযৌক্তিক বিলম্ব সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবিএম নাজমুল করিম বলেন, আমি এখন দায়িত্বে নেই।

দায়িত্বে থাকাকালীন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। পরে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট অফিসে এ ধরনের কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় না। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বদলি বা অবসরে দায়মুক্তি?

অভিযোগে উল্লেখিত সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল অন্যত্র বদলি হয়েছেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবিএম নাজমুল করিম এবং সাবেক হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম অবসরে গেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বদলি বা অবসর কি অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি থেকে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করে? তাদের মতে, সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান

গত ১৬ জুলাই ময়মনসিংহ এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে হুমায়ুন কবির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জানান, সদ্য যোগদান করায় পূর্বের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি।

অন্যদিকে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (SE) নাঈমা নাজনীন নাজ বলেন, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির সংস্কৃতি বিরাজ করছে। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বিল আটকে দেওয়া কিংবা লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখানো হতো বলেও তারা দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ। এগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো বিচারিক বা বিভাগীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ