কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নিয়েছে এক দেহে দুই প্রাণের ফুটফুটে জমজ কন্যা সন্তান। যেখানে সন্তানের জন্মে একটি পরিবার আনন্দে মেতে ওঠার কথা, সেখানে এই দুই নবজাতকের আগমনের পর থেকেই এক দম্পতির ঘরে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। জন্মের পর থেকেই শিশুদুটি বুকের অংশে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের বাঁচাতে মা-বাবার চোখে এখন শুধুই অশ্রু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। বিরল এই ঘটনা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
সন্তানদের জন্মের পর থেকেই বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বাবা-মা। জন্মের পর চিকিৎসকরা যখন জানান, শিশুদুটি বিরল ধরনের সংযুক্ত জমজ (Conjoined Twins), তখন লোকলজ্জার ভয় আর গভীর কষ্ট বুকের ভেতর চেপে রেখে কয়েক মাস ধরে সন্তান দুটিকে আড়ালেই আগলে রেখেছিলেন তারা। কিন্তু অভাবের সংসারে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যয় বহন করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আর বিষয়টি গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অর্থের অভাবে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে তাদের চিকিৎসা।
ঘটনাটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের। দিনমজুর নাহিদ হোসেন ও তার স্ত্রী মুক্তা খাতুনের অভাবের সংসারে আজ সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্মম অর্থসংকট। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদুটিকে আলাদা করতে প্রয়োজন অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার। যে পরিবারে একবেলা খাবার জুটলেও অনেক সময় দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয়, সেই পরিবারের পক্ষে এমন চিকিৎসার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে, খোঁজ নিয়ে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
যার যায়, সেই জানে হারানোর বেদনা। তাই সন্তানের জীবন বাঁচানোর আশায় সমাজের সহৃদয় মানুষের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় বাবা-মা। তাদের বিশ্বাস, সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে হয়তো একদিন এই দুই নিষ্পাপ শিশু ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন।
সবশেষে একটাই প্রার্থনা—নিয়তির ইচ্ছার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। মহান আল্লাহ যেন এই দুই নিষ্পাপ শিশুকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং তাদের পরিবারের এই কঠিন পরীক্ষা সহজ করে দেন। আমিন।
