মুনতাকা শোয়াইবা। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে কক্সবাজার জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনতাকা শোয়াইবা। ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৬২ নম্বর পেয়ে জেলার সেরা ফলাফল অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে সে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা।
মুনতাকা চকরিয়া পৌরসভার থানা সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও উম্মে মোখলেছা খানম রেশমা দম্পতির মেয়ে।
সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা
নিজের এই অসাধারণ ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় মুনতাকা জানায়, বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
ভবিষ্যতে মেডিকেলে পড়াশোনা করে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায় মুনতাকা। তার স্বপ্ন শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, ভবিষ্যতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের জন্য কাজ করা।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দের জোয়ার
মুনতাকার এই অসাধারণ সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। জেলার সেরা ফলাফল অর্জন করায় চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠেও বইছে উৎসবের আমেজ।
পরিবারের পক্ষ থেকে মুনতাকার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণ এবং আরও বড় সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
‘এই সাফল্য পুরো কক্সবাজারের গর্ব’
মুনতাকার বাবা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, এই কৃতিত্ব শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, চকরিয়া তথা পুরো কক্সবাজার জেলার শিক্ষাঙ্গনের জন্যও গর্বের। তার এই সাফল্য ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমার মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
নিয়মিত পড়াশোনা ও শৃঙ্খলাই ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি
চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক নুর উন নবী বলেন, “আমি মুনতাকার শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি, সে নিয়মিত ক্লাস করত এবং পাঠে মনোযোগী ছিল। বিদ্যালয়ের সময়সূচির সঙ্গে নিজস্ব পড়াশোনার রুটিন সমন্বয় করে পড়ত এবং শিক্ষকদের গাইডলাইনকে গুরুত্ব দিত।
তিনি আরও বলেন, “মুনতাকার আচার-ব্যবহারও ছিল অতুলনীয়। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সে অংশগ্রহণ করত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
বিদ্যালয়ের গর্ব মুনতাকা
চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আখের বলেন, “মুনতাকার এই সাফল্যে আমাদের বিদ্যালয় পরিবারের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৬২—এই দুর্দান্ত ফলাফল শুধু মুনতাকার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ, তার পরিবার এবং কক্সবাজারের শিক্ষাঙ্গনের জন্যও এক গৌরবের মুহূর্ত।
