রামু থানা
কক্সবাজারের রামুতে মায়ের বিরুদ্ধে নিজের দুই মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ। সে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। শিশুটির বাবার বাড়ি রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায়। ঘটনার সময় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায় অবস্থান করছিল।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তার (২৩)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রান্নাঘরে ঢোকার পরই মর্মান্তিক ঘটনা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রোমানা আক্তার তার দুই মাসের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
স্থানীয়দের দাবি, সুপারি কাটার ‘জাতি’ দিয়ে শিশুটির গলা কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছে পরিবার
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু দত্ত জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত রোমানা আক্তার মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এর আগে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকেছিলেন’
রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাশেকুর রহমান মাশেক বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন রোমানা আক্তার। পরে সুপারি কাটার ‘জাতি’ দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং অভিযুক্ত মায়ের মানসিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাত্র দুই মাসের নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
প্রতিবেদনটি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
