বুধবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডাকাতির আগে ডিবির জালে ৭ সদস্যের সংঘবদ্ধ চক্র

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিদেশি পিস্তল-গুলি, ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকসহ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত দলের সাত সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ভয়ংকর এক ডাকাতির প্রস্তুতি ভেস্তে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। অভিযানে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ওয়াকিটকি, পুলিশের হাতকড়া, র‌্যাব ও ডিবির পোশাক, ভুয়া পরিচয়পত্র ও গাড়ির নম্বর প্লেটসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি।

গভীর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতি, প্রথমে গ্রেপ্তার তৈয়ব

পুলিশ জানায়, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে অভিযান চালায় ডিবির লালবাগ বিভাগ। সেখানে ডাকাতির পরিকল্পনায় ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল জড়ো হয়েছে বলে তথ্য ছিল।

অভিযানে মো. তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তৈয়বকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার পাভেল সর্দারকে। তার কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মোবাইল ফোন, র‌্যাবের লোগোযুক্ত একটি আইডি কার্ড হোল্ডার, দুটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।

একে একে ধরা পড়ে আরও পাঁচজন

এরপর গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইফুর রহমান, চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দর থানাধীন সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হাতকড়া, দুটি ভুয়া গাড়ির নম্বর প্লেট, র‌্যাব লেখা তিনটি ভেস্ট, ডিবি লেখা একটি ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, বিভিন্ন রঙের ১০টি রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি পিস্তল কভার, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্টফোন।

রূপগঞ্জে মিলল বিদেশি পিস্তল ও ৬ গুলি

অভিযানের পর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার রূপসী গ্রামে তার বোনের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি ঘটনার পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে তৈয়ব আলী সর্দার ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

৪৫ মামলার তথ্য তৈয়বের বিরুদ্ধে

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাতেও তৈয়বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ডাকাতিতে ব্যবহার করত বাহিনীর পোশাক

অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ও পদবি ব্যবহার করে বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি ও অস্ত্র নিয়ে দস্যুতা ও ডাকাতি করতেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে তাদের এই চক্র কতগুলো ঘটনায় জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে তৈয়ব আলী সর্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তার মালিকানাধীন একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়।

দুই থানায় মামলা, পলাতকদের ধরতে অভিযান

ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা কোথায় কোথায় ডাকাতি করেছে এবং তাদের পলাতক সহযোগীরা কারা—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।