দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য টিউশন ফি জমা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ১৯৪ বাংলাদেশিসহ ২২৫ শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাঠানো প্রায় ১৬ কোটি টাকা আটকে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অর্থ উদ্ধারে আগামী রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে যাচ্ছেন একজন আইনজীবী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ এবং ইউ কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সির পক্ষে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সিউলে যাবেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ জন নেপালের এবং তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য মোট প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা টিউশন ফি হিসেবে জমা দিয়েছিলেন।
ভিসা প্রত্যাখ্যান, ফেরত মেলেনি কোটি কোটি টাকা
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ায় তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে টিউশন ফি ফেরত দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আইনি নোটিশ, এবার কোরিয়ার আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি
ইউ কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সির আইনি পরামর্শক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি ঢাকার সুপ্রিম ল ফার্মের হেড অব চেম্বার। ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুঁইকে সঙ্গে নিয়ে গত ২০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ফেরতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়।
সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, অফার লেটারের শর্ত অনুযায়ী ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করা হয়নি। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উপযুক্ত আদালতে শিক্ষার্থীদের পাওনা দাবির আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সঞ্চয়, ঋণ ও জমি বন্ধক রেখে পাঠানো টাকা
সাইফুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, যথাসময়ে দাবি সংক্রান্ত আবেদন আদালতে জমা দিতে পারলে শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে অনেকে নিজেদের সঞ্চয় ভেঙেছেন, কেউ ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ জমি বন্ধক রেখে টিউশন ফি পাঠিয়েছেন। সেই অর্থ আটকে যাওয়ায় এখন তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ২২৫ শিক্ষার্থীর আটকে থাকা প্রায় ১৬ কোটি টাকা উদ্ধারে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে আইনি লড়াই। আগামী ২৮ আগস্টের সময়সীমাকে সামনে রেখে এখন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের নজর সিউলের আদালতের দিকে।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাসিন্দা।
