কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। একই সময় তীব্র স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিশুকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করেছেন। নিখোঁজ মোস্তাকিমকে উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেরা পৃথকভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম হোসেন উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ছয় শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে কয়েকজন শিশু নদীর গভীর পানির দিকে চলে যায়। এ সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানিতে চলে গিয়ে ডুবে যেতে থাকে।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে ইব্রাহিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোত ও গভীর পানির কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। নিখোঁজ শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও ছুটে আসেন নদীর পাড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। নিখোঁজ মোস্তাকিমকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরাও মাছ ধরার জাল নিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, তীব্র স্রোতের কারণে শিশুটি ঘটনাস্থল থেকে দূরের কোনো এলাকায় ভেসে যেতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে। তারপরও শিশুটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে মোস্তাকিম নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়রাও শিশুটিকে দ্রুত জীবিত উদ্ধারের আশায় নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন। পদ্মার প্রবল স্রোতের মধ্যেই নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
