পূর্ববিরোধের জেরে মোটরসাইকেলের গতিরোধ, গুরুতর আহত সোহান—থানায় লিখিত অভিযোগ। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পূর্ববিরোধের জেরে এক যুবককে লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর এবং তার মোটরসাইকেলের সিটিং ব্যাগ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই মো. জাকিরুল ইসলাম (৩৬)।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের নতুন আমদহ গ্রামের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ওই বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরুল ইসলামের ছোট ভাই মো. সোহান আলী ব্যবসায়িক কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নতুন আমদহ গ্রামের জনৈক মোস্তফার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সোহান আলীর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর তাকে ঘিরে ধরে লাঠি, লোহার রড, লোহার হাতুড়ি ও রামদা দিয়ে মারধর শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে এস এম হুমায়ন কবিরের হুকুমে মো. শোভন মালিথা লোহার রড দিয়ে সোহান আলীর মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আঘাত থেকে বাঁচতে সোহান হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কবজিতে আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সোহান আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও কালশিরা জখম হয়।
এ সময় বিশাল ও বাঁধন সোহানের দুই হাত চেপে ধরে রাখেন এবং সম্রাট তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সিটিং ব্যাগে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা বের করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোহানের চিৎকার শুনে স্থানীয় তুহিন, হাসিবুল কবির নাঈম, নাজিম হোসেনসহ আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা আহত সোহান আলীকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে এস এম হুমায়ন কবির, মো. শোভন মালিথা, সম্রাট আলী, বাঁধন শেখ, সুমন আলী ও বিশালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর এবং নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। থানায় দেওয়া অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
