মোটরসাইকেলে তিন দুর্বৃত্ত, ঘটনাস্থলে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার। প্রতীকী ছবি
খুলনায় জলিল মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে নগরীর দৌলতপুর থানার কুলিরবাগান বটতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত জলিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
নিহত জলিল মুন্সি ওই এলাকার দিলুর মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় পাট শ্রমিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খুলনা মহাসড়কের কুলিরবাগান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জলিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি সেখানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জলিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলিতে জলিলের বুকের ডান পাশে একটি এবং পিঠের বাম পাশে আরেকটি গুলি বিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত জলিলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদকসংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, নগরীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা নগরীতে এ পর্যন্ত ৩০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়েছে। ফলে বাকি মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ বলছে, সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
