শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়: নাহিদ ইসলাম

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এনসিপির মানববন্ধনে গুম প্রতিরোধ আইন, সাইবার আইন ও দুদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়। তিনি নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার হয়ে ওঠার আগেই জনগণ রাজপথে তার স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করা, এসআরবি আইনের নামে র‌্যাবকে বহাল রাখা, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগে এ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি।

ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাগেরহাটের মোংলার মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস তাঁর কোনো খোঁজ নেই। গাজী সালাউদ্দিন তানভীর হাসপাতালে ভর্তি। তিনি তারেক রহমানকে নিয়ে যে কথা বলেছিলেন, এনসিপি তা সমর্থন না করে তাঁকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু তানভীর যে কথা বলেছিলেন, তা কি সন্ত্রাস? তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে কেন?’

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বানানো কি সন্ত্রাস? কটূক্তি করা কি সন্ত্রাস?

গুম প্রতিরোধ আইনের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এ আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ফলে গুমের অভিযোগ নিয়ে কেউ সামনে আসতে সাহস পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি আগে গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইত, জাতিসংঘকে চাইত। আর এখন তারা এক বাহিনী গুম করলে অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্ত করাতে চাচ্ছে। মানে গুমের বিচার হবে না।

তিনি অবিলম্বে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, গুমের তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনের নামে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে কোনোভাবেই হরণ না করা হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রম নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকের চলমান তদন্তকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দুদক পুনর্গঠন না করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি সাহস থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করুন। আগে রাস্তায় ইট-পাথরের সঙ্গে দুর্নীতি করেছেন। এখন মহিষ ঘাস খাওয়া থেকেও চাঁদাবাজি করছেন।

সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এমন আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মানবাধিকার হরণ করা সম্ভব। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানববন্ধনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যিনি গুম করবেন, তাকেই সেখানে তদন্তের ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। যিনি গুমের ভিকটিম হচ্ছেন, তাঁর পরিবার সংক্ষুব্ধ হয়ে তদন্তের জন্য গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কথা বলার জন্য বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

তিনি বলেন, সংসদে এ সমস্যার সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ফয়সালা করা হবে।

মানববন্ধনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।