বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমতার রঙ বদল, টেন্ডারের অদৃশ্য সাম্রাজ্য, সরকার বদলায়, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়—কিন্তু বদলায় না চেয়ার! গণপূর্তের মাসুদ রানাকে ঘিরে প্রভাব, পদায়ন ও কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাসুদ রানা এখন কার আত্মীয়?। ফাইল ছবি

সরকার আসে, সরকার যায়। বদলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, পাল্টায় ক্ষমতার সমীকরণ। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ক্ষেত্রে যেন বদলায় না কিছুই। বরং সময়ের হাওয়ার সঙ্গে গিরগিটির মতো রং বদলে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এই অভিযোগের তালিকায় আলোচিত একটি নাম ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত ক্যাডার) কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা। সরকারি তালিকাতেও তাঁকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিচয় ও প্রভাবের বলয় বদলে গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলী এই কর্মকর্তা। কখনো প্রভাবশালী কর্মকর্তা, কখনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, আবার কখনো ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠজন—বিভিন্ন পরিচয়ের আড়ালে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

পাবনা থেকে রাজশাহী, সেখান থেকে ঢাকায় প্রভাবের বিস্তার

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ রানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ওই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাজশাহী গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২ এবং ২০১৬ সালের ৩ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগ দেন মাসুদ রানা।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে মেরামত ও নির্মাণকাজের পাশাপাশি বড় প্রকল্পের তথাকথিত ‘সেভিংস’ বা সাশ্রয়ের অর্থ ভাগবাটোয়ারায় তাঁর প্রভাব ছিল। এমনকি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন নির্মাণকাজে বাঁশ-কাঠের সেন্টারিং ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১-এ পদায়ন পান তিনি। প্রকাশ্য তথ্যেও ওই সময় তাঁকে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনের সময় তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেন, খালেকুজ্জামানের কথিত কমিশনের অর্থ সংগ্রহ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও মাসুদ রানার ভূমিকা ছিল।

শামীম আখতার অধ্যায়: ‘আত্মীয়তার’ নতুন সমীকরণ

২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে ছিলেন মো. শামীম আখতার। তাঁর আমলকে ঘিরে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বলয় তৈরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, শামীম আখতারের নেতৃত্বে রাজশাহী-কেন্দ্রিক একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ে রাজশাহী ও আশপাশের জেলার কয়েকজন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের মধ্যে আতিক, হারুন, মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সবুজ, আজমুল হক মুন এবং পাবনার মাসুদ রানার নামও আলোচনায় আসে।

শামীম আখতারের সঙ্গে মাসুদ রানার সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে ‘আত্মীয়তার’ পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি শ্বশুরবাড়ির সূত্র ধরে তাঁকে শামীম আখতারের বিশেষ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কথাও বলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

তবে এ ধরনের আত্মীয়তার দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে নেই।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে পদায়নের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে মাসুদ রানা তৎকালীন পাবনার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে তদবির চালিয়ে ২০২১ সালে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ পদায়ন বাগিয়ে নেন।

পরবর্তীতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়াকে ঘিরেও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণপূর্তের কয়েকজন প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলীর ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ঘুরেফিরে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়।

মাসুদ রানাও ছিলেন দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকা কর্মকর্তাদের একজন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর কাছে মাসুদ, আতিক ও চুন্নুর মাধ্যমে দুই কোটি টাকা নজরানা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এই অর্থ লেনদেনের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন।

আন্দোলনের সময় বদলে যায় ভাষা, বদলে যায় পরিচয়

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গণপূর্তের কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় মাসুদ রানাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি ও কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

কিন্তু ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এরপরই মাসুদ রানা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নতুন প্রশাসনিক বাস্তবতায় নিজেকে ‘গুপ্ত’ ও ‘সুপ্ত’ অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাও করেন তিনি।

এমনকি নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে গিয়ে এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ওই সহকর্মী দীর্ঘদিন বিএনপিপন্থী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকর্মীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে থাকা প্রয়োজন।

নতুন সরকারের আমলে নতুন ‘আত্মীয়তা’?

রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর পর মাসুদ রানাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়—বর্তমান প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে তাঁর কথিত ঘনিষ্ঠতা।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকা-৭ আসনের এমপি ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিবকে কৌশলে ম্যানেজ করে নিজেকে তাঁর ‘আত্মীয়’ হিসেবেও পরিচিত করানোর চেষ্টা করেছেন মাসুদ রানা।

গণপূর্তের এক ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীর ভাষ্য, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালে মাসুদ রানার পরিচয়ের ক্ষেত্রেও দ্রুত পরিবর্তন আসে।

তবে এই কথিত আত্মীয়তার দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

টেন্ডারের অদৃশ্য খেলা—অভিযোগের কেন্দ্রে মাসুদ রানা

মাসুদ রানাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি সরকারি টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বা প্রভাবাধীন প্রকল্পে—

দরপত্রের আগেই তথ্য ফাঁস করা।

পছন্দের ঠিকাদারের জন্য শর্ত তৈরি।

প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারকে অযোগ্য করার চেষ্টা।

নকশা বা প্রাক্কলন পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো।

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া।

বিল পরিশোধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া।

এবং কমিশন আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ

করা হয়েছে।

কিছু অভিযোগে চুক্তির সময় ৩ শতাংশ এবং বিল পরিশোধের সময় ৫ শতাংশ কমিশনের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের আর্থিক সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রাক্কলন, দরপত্র নথি, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বহু দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ নিয়েও প্রশ্ন

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র সংস্কার ও নির্মাণকাজ নিয়েও মাসুদ রানাকে ঘিরে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও প্রয়োজন না থাকলেও সংস্কার, আবার কোথাও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন—এমন একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।

একই সঙ্গে কিছু নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, কম পরিমাণ রড এবং সিমেন্ট-বালুর অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, স্পেসিফিকেশন, প্রাক্কলন, কাজের পরিমাপ বই, বিল এবং তৃতীয় পক্ষের গুণগত মান পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

‘সিন্ডিকেট’ কতটা শক্তিশালী?

মাসুদ রানাকে ঘিরে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো—তিনি একা নন; তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় বা সিন্ডিকেট সক্রিয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই বলয়ের প্রভাব শুধু টেন্ডারেই সীমাবদ্ধ নয়। বদলি, পদায়ন, নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব রয়েছে।

অধিদপ্তরের ভেতরে মাসুদ রানাকে নিয়ে ‘ক্যাশিয়ার’ বা কমিশন সমন্বয়কারী হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এটি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগমাত্র; কোনো সরকারি তদন্তে এমন ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুদকে অভিযোগ, প্রশ্ন জবাবদিহিতা নিয়ে

মাসুদ রানাকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছেছে এবং কয়েকজন ভুক্তভোগী নতুন করে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কতটা সত্য? টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না? প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না? রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পদায়ন নেওয়া হয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর একমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তেই পাওয়া সম্ভব।

অভিযোগের জবাব কোথায়?

মাসুদ রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি—এমন তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর জবাবসহ প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে তা প্রকাশ করা হবে।

এক মাসুদ রানা, নাকি একটি ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি?

মাসুদ রানাকে ঘিরে অভিযোগের পরিমাণ ও ধরন শেষ পর্যন্ত একটি ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

সরকার বদলায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সমীকরণ বদলায়, মন্ত্রী-সচিব বদলায়—কিন্তু একই কর্মকর্তা বছরের পর বছর ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার আঁকড়ে থাকেন কীভাবে?

কীভাবে একই ব্যক্তি এক সরকারের সময় এক বলয়ের ঘনিষ্ঠ এবং পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি চলে যান?

আর যদি টেন্ডার, বদলি, পদায়ন ও কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো অংশও সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে শুধু একজন কর্মকর্তার দায়, নাকি আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে—সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ, সরকারি প্রকল্প ও প্রশাসনিক পদায়নের সঙ্গে এসব অভিযোগ জড়িয়ে থাকায় স্বচ্ছ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

মাসুদ রানাকে ঘিরে আরও নথি, টেন্ডার, পদায়ন ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য নিয়ে থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদন।চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।