ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা মধ্যরাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় টিকা, সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ অর্থ রয়েছে। নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রাড্ডার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাট হিসেবে উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘রাড্ডা একটি বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৫০ বছর ধরে এই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছি। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিভিন্ন টিকাদান ও ক্যাম্পেইন কার্যক্রম করি।
তিনি বলেন, ‘আগামীকালও আমাদের টিকাদান ক্যাম্পেইন ছিল। অথচ গতকাল মধ্যরাতে সন্ত্রাসীরা আমাদের সেন্টারের সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে এবং স্থাপনা তছনছ করেছে।
নাসরিন আখতার আরও বলেন, যারা এ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে গত ৫০ বছর ধরে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রাড্ডার স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম চলেছে, তা পুনরায় চালু করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা অন্য কোনো নির্দেশনা পায়নি।
মানববন্ধনে রাড্ডা কমিউনিটি হেলথের পরিচালক ইকবাল জিল্লুল মজিদ বলেন, ‘জেনেভা ও রোম কনভেনশন অনুযায়ী কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলা হলে সেটি যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে।
তিনি বলেন, ‘৫১ বছর ধরে রাড্ডা এই এলাকার মা, শিশু ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
