মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোন আত্মীয়ের পরিচয়ে ‘ডিগবাজি’, ক্ষোভে ফুঁসছে তিতাস, ‘জাদুবলে’ চেয়ার ধরে রেখেছেন তিতাসের এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ?

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ফটো

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, তদন্ত ও বিতর্কে ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। নিয়োগপ্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদায়ন, গ্যাস সংযোগ, রেশনিং, বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে কথিত প্রভাবশালী পরিচয় ও ক্ষমতার বলয় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অভিযোগকারীরা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জিটিসিএলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজকে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা দেয়। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পেট্রোবাংলার তৎকালীন চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেনা প্রহরায় শাহনেওয়াজ পারভেজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপিমনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুটিনমাফিক হয়রানি, বদলি ও পদোন্নতি আটকে রাখার মতো কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঠুনকো অভিযোগে কর্মকর্তাদের ওএসডি করা, এমনকি চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নিয়োগ থেকেই প্রশ্নের শুরু

শাহনেওয়াজ পারভেজের নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ১৯৯৯ সালে পেট্রোবাংলায় তাঁর প্রথম শ্রেণির চাকরিতে যোগদানকে ঘিরে। অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সহকারী প্রকৌশলী (পেট্রোলিয়াম) পদে নিয়োগ পান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতে নয় বছর অবস্থান করে তিন বছরের বিটেক ডিগ্রি অর্জন করে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইকুইভ্যালেন্সি বা সমতাসনদ জমা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৩ বছর নিয়মবহির্ভূতভাবে একই বিভাগ—কন্ট্রাক্ট বিভাগে কর্মরত থেকে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে।

তবে নিয়োগের বিষয়ে শাহনেওয়াজ পারভেজের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, পেট্রোবাংলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তিনি ১৮ মার্চ ১৯৯৮ তারিখে জিপিও বক্স নম্বর ৮৪৯, ঢাকা-১০০০ বরাবর আবেদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত দরখাস্ত বাছাইয়ের পর বিবেচনাযোগ্য প্রার্থীদের লিখিত/মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল।

তাঁর দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী তাঁসহ অন্যান্য প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলা থেকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অনেক প্রার্থী অংশ নেন। বর্তমানে পেট্রোবাংলায় কর্মরত দুই মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাও একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অধীনে সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ সাহা, মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা, কৌশল ও রিসোর্সেস মবিলাইজেশন) এবং ফারহানা শাওন, মহাব্যবস্থাপক।

অর্থাৎ শাহনেওয়াজ পারভেজের নিজের বক্তব্য অনুযায়ীও তিনি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সহকারী প্রকৌশলী (পেট্রোলিয়াম) পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে আসে নিয়োগের প্রশ্ন

শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন—জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মো. আব্দুল মান্নান, সিনিয়র সহকারী সচিব (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-৩ শাখা) সাব্বির আহমেদ এবং পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস এম মাহবুব আলম।

কমিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র, নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, লিখিত জবাব এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরেজমিনে নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে শাহনেওয়াজ পারভেজকে সহকারী প্রকৌশলী (পেট্রোলিয়াম) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভারতে নয় বছর অবস্থান করে তিন বছরের বিটেক ডিগ্রি অর্জন এবং ইক্যুভ্যালেন্ট সার্টিফিকেট ছাড়া চাকরিতে যোগদানের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘লিখিত/মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ’-এর বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু কেন শুধু মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

বিটেক ডিগ্রি নিয়েও বিতর্ক

শাহনেওয়াজ পারভেজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর অর্জিত বিটেক ডিগ্রি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সমতুল্য নয় এবং নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় সমতা বা অ্যাক্রিডিটেশন সার্টিফিকেটও ছিল না।

তবে শাহনেওয়াজ পারভেজের বক্তব্য, তিনি ব্যাচেলর অব টেকনোলজি বা বি.টেক ইন পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী। এটি চার বছর মেয়াদি এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সমতুল্য বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ভারতের ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস, ধানবাদ থেকে অর্জিত বিটেক সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং নিয়োগের সময় ওই সার্টিফিকেটের সমতা বা অ্যাক্রিডিটেশন করা হয়নি।

২৩ বছর একই বিভাগে, অভিযোগ সিন্ডিকেটের

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনের দীর্ঘ ২৩ বছর শাহনেওয়াজ পারভেজ পেট্রোবাংলার কন্ট্রাক্ট বিভাগে কর্মরত ছিলেন। একই বিভাগে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় প্রায় ১৫০টি নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি করে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অবৈধ সংযোগ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৩০ কোটি টাকা আদায় করা হতো বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‘বিনা ভোটে’ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি?

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে পেট্রোবাংলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনে শাহনেওয়াজ পারভেজ বিনা ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে ফুল দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

এর ব্যাখ্যায় শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, তিনি পেট্রোবাংলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় পেট্রোবাংলার নির্বাচন কমিশন তাঁর নাম সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে।

টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সরকার যখন যেভাবে কোনো কাজের নির্দেশনা প্রদান করে, সরকারের তথা প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে সেভাবেই তা প্রতিপালন করতে হয়।

‘বাইপাস সিন্ডিকেট’ ও এক কর্মকর্তার তিন দায়িত্ব

শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিভিন্ন বড় কোম্পানিতে অবৈধ বাইপাস লাইন দিয়ে মাসে মাসে টাকা আদায়ের জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে একই সঙ্গে ডিএমডি-গাজীপুর, ডিএমডি-ময়মনসিংহ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং মহাব্যবস্থাপক-গাজীপুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)—তিতাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন কর্মকর্তা কীভাবে একই সময়ে অতিরিক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন?

গ্যাস রেশনিং, ‘কিস্তি পারভেজ’ ও কোটি টাকার অভিযোগ

গ্যাস রেশনিং করে কোটি কোটি টাকা আয়ের অভিযোগও উঠেছে শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে একদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া এবং অন্যদিকে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হতো।

একইভাবে বিভিন্ন কোম্পানির বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্যাস বিপণন নীতিমালা উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে কিস্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ফ্যাক্টরি পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁকে ‘কিস্তি পারভেজ’ নামে ডাকেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে শাহনেওয়াজ পারভেজের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, গ্যাস বিপণন নীতিমালা ২০১৪-এর ধারা ৮.৫.২ অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন করা গ্রাহকের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। কোনো গ্রাহকের বকেয়া জমে গেলে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বকেয়া আদায়ের স্বার্থে এবং বন্ধকালীন শ্রমিক অসন্তোষ পরিহারের বিষয়টি বিবেচনা করে সারচার্জসহ মাঝে মাঝে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে কিস্তি প্রদান করা হয়।

১৬ অভিযোগে লিখিত অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী পেট্রোবাংলা ও কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মো. আনোয়ার হোসেন শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানা গেছে। ওই অভিযোগে মোট ১৬টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাকরিতে কোনো ধরনের লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগদান, ভারতে নয় বছর অবস্থান করে তিন বছরের বিটেক ডিগ্রি অর্জন এবং ইক্যুভ্যালেন্ট সার্টিফিকেট ছাড়া চাকরিতে যোগদান, ২৩ বছর পেট্রোবাংলার কন্ট্রাক্ট বিভাগে কর্মরত থাকা, গ্যাস সঞ্চালন ও বিপণনের অভিজ্ঞতা না থাকা এবং সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে জিটিসিএল ও তিতাস গ্যাসের এমডি পদে পদায়িত হওয়া।

এ ছাড়া সেট বাংলা নামে একটি কোম্পানিকে শত কোটি টাকার অবৈধভাবে কাজ প্রদান, শত কোটি টাকার অবৈধ শিল্প সংযোগ প্রদান, বিনা ভোটে পেট্রোবাংলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া, দুই কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা, পিএসসি বিডিং রাউন্ডের মডেল তৈরিতে অনিয়ম, এসএস-৪ ও এসএস-৯ ব্লক ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসিকে এককভাবে প্রদান এবং কোরিয়ান কোম্পানি দাইয়ুকে এককভাবে কাজ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় দফায় আরও অভিযোগ

গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে পেট্রোবাংলা ও ১৩টি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মো. নূর হোসেন নামে একজন সচিব জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানা গেছে।

ওই অভিযোগে আগের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু অভিযোগ সংযোজন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলডি প্রদানের মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ফেরত, হুন্দাই কোম্পানিকে ১৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ, সিস্টেম লসের নামে হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি, গ্যাস রেশনিং করে কোটি কোটি টাকা আয়, একই ব্যক্তিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বকেয়া গ্যাস বিল কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা এবং সার্ভিস লাইন বন্ধ করে টাকা আদায়ের অভিযোগ।

গ্যাস সংকটের মধ্যে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেও তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

রান্নার চুলা থেকে ভারী শিল্পকারখানা—গ্যাস সংকটে ভোগান্তি বাড়ছে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে ২ হাজার ১১৪ থেকে ২ হাজার ১৫১ মিলিয়ন ঘনফুটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।

এই ঘাটতির ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ও সার সংকটও সৃষ্টি হয়েছে।

আকস্মিক গ্যাস সংকটের পেছনে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কথা বলা হলেও তিতাস গ্যাসের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অনিয়মকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ উঠেছে।

তিতাস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে ১৫০ কোটি বা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুটেরও কম। বিতরণ নেটওয়ার্কের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না।

চাপের চরম ঘাটতির পাশাপাশি পাইপলাইনের ছিদ্র ও ফাটল দিয়ে পানি ঢোকার কারণেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

‘চেয়ার’ ধরে রাখার রহস্য কোথায়?

শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংকট যখন তীব্র, ঠিক তখনই তিতাসের শীর্ষ পদে থাকা শাহনেওয়াজ পারভেজকে ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ। নিয়োগ থেকে পদায়ন, গ্যাস সংযোগ থেকে রেশনিং, বকেয়া বিল থেকে কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা নানা প্রশ্ন তুলছেন।

এরই মধ্যে তাঁর কথিত রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট আত্মীয়ের পরিচয়ের কারণে তিনি সুবিধা পেয়েছেন—এমন দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর প্রভাব ও পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

শাহনেওয়াজ পারভেজের বক্তব্য

এসব দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ও তিতাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে নানা অভিযোগ দিয়েছে এবং সেসব অভিযোগের তদন্তও হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, নিয়োগসংক্রান্ত মূল নথি, পদায়ন আদেশ, গ্যাস সংযোগের অনুমোদনপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিযোগকারীদের দাবি, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে শাহনেওয়াজ পারভেজের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ