কুষ্টিয়া: ‘যদি ক্ষতির কারণ লজ্জা হয়, তাহলে আর লজ্জা নয়। জেনে নিন, জেগে উঠুন, স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়’—এমন সচেতনতামূলক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পালিত হয়েছে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও লিফলেট ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র, রাশিদা ফাউন্ডেশন, মহিলা উন্নয়ন সমিতি এবং সাফ (SAF)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মহিলা উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক নিলুফা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাফ-এর নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত লিফলেট ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সোনিয়া কাওকাবী। এ ছাড়া কর্মসূচিতে অংশ নেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম, হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক এবং বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্তন ক্যান্সার নিয়ে সমাজে প্রচলিত নীরবতা, লজ্জা ও অজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সচেতনতার বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত সংকোচ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, লজ্জা ও ভ্রান্ত ধারণা নয়—সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপই পারে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
