দুই দফা থানায় ডাকলেও মেলেনি সমাধান, দ্বিতীয় দফায় হাজির হননি অভিযুক্তরা। ফাইল ছবি
মেহেরপুরের গাংনী মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির মালিক আয়ারল্যান্ড প্রবাসী লিটন হোসাইন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জমির মালিকের শাশুড়ি মোছা. মনোয়ারা খাতুন (৪৫) মেহেরপুরের গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও মো. আনেচ আলীর (৩২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা উভয়েই আক্কাস আলীর ছেলে এবং গাংনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ ও জমির মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিটন হোসাইন ২০১৮ সালে গাংনী মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে মো. বাসারের কাছ থেকে পাঁচ শতক জমি কেনেন। প্রবাসে উপার্জিত কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা ওই জমির ক্রয়সংক্রান্ত দলিল ও আরএস রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে। জমি কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী নামজারি, খারিজ ও খাজনা পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন তিনি।
জমির তফসিল অনুযায়ী, গাংনী মৌজার আরএস খতিয়ান নম্বর ২২৬৬ এবং আরএস দাগ নম্বর ৪১৭৬-এর পাঁচ শতক জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
লিটন হোসাইনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে অভিযুক্তরা জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর স্বজনদেরও ওই জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
জমির মালিকের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি সমাধানের জন্য অভিযুক্তদের দুই দফায় গাংনী থানায় ডাকা হয়েছিল। প্রথম দফায় তাঁরা থানায় উপস্থিত হয়ে ভেঙে ফেলা সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের জন্য দুই দিন সময় চান। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও তাঁরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাচীর নির্মাণ করেননি। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় থানায় ডাকা হলেও অভিযুক্তরা হাজির হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমির মালিকের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, জমির বৈধ কাগজপত্র ও মালিকানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি জমিটি যেন জোরপূর্বক দখল করা না যায়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন, জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে গাংনী থানায় লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই এবং জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
