ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা ঘিরে সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম মিলনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপির থানা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা একজন নেতাকে মহানগর উত্তর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক।
গত ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিএনপির প্যাডে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মিজানুর রহমান রাজকে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শরিফুল ইসলাম মিলনকে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শরিফুল ইসলাম মিলন বর্তমানে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কাফরুল থানা যুবদলের সভাপতি থাকলেও বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির একটি থানা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় তাঁকে মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।
তাঁদের প্রশ্ন, একই সময়ে বিএনপি ও যুবদলের দুটি পৃথক সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কতটা সাংগঠনিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এ ছাড়া অতীতে যুবদলের পদে থাকা অবস্থায় বহিষ্কারের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও অতীত কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এদিকে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বিএনপির প্যাডে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী। তাঁদের মতে, যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রত্যাশিত।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, যুবদল একটি স্বতন্ত্র সাংগঠনিক কাঠামোর সংগঠন। এর নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা থাকা জরুরি। কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূলে এমন অসন্তোষ তৈরি হলে সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাঁরা আরও মনে করেন, তৃণমূলের মতামত ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ছাড়া কমিটি গঠন করলে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা এখন সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শরিফুল ইসলাম মিলনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিতর্কের অবসান হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
