রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বামীর পায়ে লুটিয়ে পড়েও তালাক ঠেকাতে পারলেন না ইতি

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি
নভেম্বর ৮, ২০২৬ ৯:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সালিশে স্বামীর পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করছেন তালাকপাপ্ত ইতি। ছবি: সংগৃহীত

থানার মধ্যে সালিশের মধ্যে প্রকাশ্যে স্বামীর পা ধরে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানিয়েছিলো ইতি আক্তার (২৫)। তার কান্নাকাটিতে উপস্থিত অনেকের মন গলেছে। কিন্তু মন গলেনি স্বামী রণি খানের (৩০)। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তালাকপ্রাপ্তা হয়ে ইতি আক্তারকে বাড়িতে ফিরতে হয়। সন্তান না হওয়ার অপবাদে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের হিজলা উপজেলায়।

জানা গেছে, ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় পারিবারিক কলহ মেটাতে গতকাল শনিবার রাতে হিজলা থানা সংলগ্ন একটি ফাঁকা দোকানে দুইপক্ষের সালিশ বৈঠক হয়। হিজলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আজগার তখন উপস্থিত ছিলেন। তালাক দেওয়া হবে শুনে ইতি স্বামীর পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন। তার আকুতি মিনতীতেও মন গলেনি স্বামীর মন গলেনি।

ইতি হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে। পাশের উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জের বামনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে গামেন্টস্ শ্রমিক রনি।

ইতির ভাই জুলহাস জানিয়েছেন, ৭ বছর আগে সামাজিকভাবে ইতি ও রণি খানের বিয়ে হয়েছিলো। রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নরসিংদীর মাধবদী থানার চৌদ্দপাইকা এলাকায় বসবাস করছেন। ইতিও সেখানে থাকতো। দীর্ঘ বছরে ইতির গর্ভে সন্তান না আসায় সব দোষ ইতিকে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল।

জুলহাসের ভাষ্য, অভিযোগ দেওয়ার পর হিজলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলী আজগর দু’পক্ষকে নিয়ে কয়েকদিন আগে বসেছিলেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাতে আবারও থানার কাছে একটি দোকানের মধ্যে বসা হয়। তালাক দেওয়ার কথা শুনে তার বোন ইতি স্বামী রণির পায়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছে। কিন্তু রণি অনঢ় থাকায় সংসারটা টেকানো যায়নি।

ইতি সাংবাদিকদের বলেন, আমার সন্তান হবে না এটা কোনো চিকিৎসক বলেননি। চিকিৎসায় আইভিএস পরীক্ষার জন্য ৫ লাখ টাকা খরচের কথা বলা হয়েছে। আমার পিতা ওই টাকা দিতে রাজী হয়েছিলেন। আমি স্বামীর পায়ে ধরে ৬টা মাস সময় চাইছিলাম’।

এসআই আজগর দায়ী করে ইতি বলেন, এসআই শুরু থেকে রণির পক্ষাবলম্বন করেছে। আমার কাছে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করে রণির কাছে জানতে চায়- ‘ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তুমি কি তাকে রাখবা না”।

সালিশে উপস্থিত ছিলেন হিজলা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন। তিনি জানান, দুইপক্ষকে বুঝিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এসআই আজগর অতি উৎসাহ দেখিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আলী আজগর গণমাধ্যমকে বলেন, ইতির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি তদন্ত করেন। সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য দুপক্ষকেই কাউন্সেলিং করেছেন। শনিবার রাতে সালিশিতে উপস্থিতি ছিলেন বলে দাবি করেন আলী আজগর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।