ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে টিএসসিতে শোক মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলপাড়া থেকে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। তারপর সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানান ডাকসুর নেতারা।
শোক মিছিলে ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব, ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও, আমার ভাই কবরে খুনি কেন বাইরে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে আরেকটি শোক মিছিল টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে শাহবাগে মোড়ে জড়ো হন৷ সেখানে আগে থেকে নানা শ্রেণির লোকজন অংশ নেন।
তারা ‘লাগছে গুলি হাদির গায়, আমরা আছি লাখো ভাই, দিল্লি না ঢাকা ঢাকা ঢাকা, জান দিয়েছে আমার ভাই, খুনি তোদের রক্ষা নাই, একটা একটা লীগ ধরে ধরে জেলে ভর, তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ নেতারা অংশ নেন।
রাজু ভাস্কর্যের কর্মসূচিতে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘আজকে কথা বলার অবস্থা নেই। আমাদের কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। দুই হাজার জীবন দেওয়ার পরও কেন স্বাধীন দেশে জুলাই যোদ্ধাকে গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে। হাদি ভাই বারবার মৃত্যুঝুঁকির ব্যাপারে বলেছেন কিন্তু ইন্টেরিম কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বারবার বিভিন্ন জায়গায় আশঙ্কার কথা জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘাতক আগেও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে প্রফেশনাল কিলার হয়ে হাদী ভাইয়ের পাশে ঘুরেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই জানতো। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিগত সময়ে বিরোধী দল বিনএপি জামায়াত প্রোগ্রাম করার তিনদিন আগে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী জানতো, এখন তারা কোথায়? না জানার পরও তাদের বেতন দিয়ে কী লাভ। তারা এখন ভারতের এজেন্ডা সার্ভ করে।’
এবি জুবায়ের আরও বলেন, ‘আমাদের সুশীলরা আমাদের ভাইকে হত্যাযোগ্য করে তুলেছে। আজকে হাদি, কালকে অন্য কেউ এটির শিকার হবে। অথচ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলে, যার নিরাপত্তা তার তার কাছে। অস্ত্র মামলায় আসামি অবাধ বিচরণ করলে হাদি ভাইকে গোয়েন্দা সংস্থা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী রিয়াদুল জুবাহ বলেন, ‘হাদি ভাই রক্তের কসম, ভারতীয় আধিপত্যবাদ মুছে দিব। আমাদের লড়াই চলবে। প্রতি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ আমরা নেব। ১৯৭১ সালে পিন্ডি থেকে মুক্ত হলেও আমাদের ওপর ভারতের আগ্রাসন চলছে। ভারতের আগ্রাসন চলতে দেব না। সুশীলতা চলবে না। যারা টকশোতে ভাইকে হত্যাযোগ্য করে তুলেছে। তাদেরকে বয়কট করুন।’
