বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরকীয়ার অভিযোগে ফেঁসে গেলেন গণপূর্তের সমীরণ মিস্ত্রী : সংসদ ভবনের ইএম বিভাগে ‘টাকাখেকো ইঞ্জিন’, শতকোটি লুটের ভয়াবহ অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম–দুর্নীতির আবর্জনার স্তূপে এবার নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর নাম। পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে আসা এই কর্মকর্তা এখন ঘিরে ধরেছেন আরও ভয়ংকর অভিযোগ—ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা লুটপাটের অনুসন্ধানী তথ্য।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে গভীর ও অস্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন সমীরণ মিস্ত্রী। দীর্ঘদিন একই বিভাগে একসঙ্গে কর্মরত থাকা, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং তাকে নিয়ে ভারত গমনের ঘটনাও এখন দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচিত বিষয়। এসব সম্পর্কের আড়ালেই গড়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

সংসদ ভবনের ভেতরে ‘মিস্ত্রী মডেলের’ লুটপাট : অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীন ই/এম বিভাগ–৭ (জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা)-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী নিজেকে প্রমাণ করেছেন এক ভয়ংকর “অবৈধ অর্থ কামানোর মিস্ত্রী” হিসেবে।

প্রায় ৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থান করে তিনি ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, তিনি তখন আবির্ভূত হন “জাতীয় সংসদের টাকাখেকো ইঞ্জিন” হিসেবে।

আমব্রেলা প্রজেক্টের আড়ালে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ : সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য এসেছে তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’ ঘিরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে— জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে। অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি দরপত্রের মাধ্যমে অঙ্গভিত্তিক প্রকল্প দেখিয়ে, প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা ছিলেন স্বয়ং সমীরণ মিস্ত্রী নিজেই। অর্থাৎ পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রণ একক হাতে রেখে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

বদলি হলে এখনও আছে বহাল তবিয়তে –

অভিযোগের পাহাড় থাকা সত্ত্বেও সমীরণ মিস্ত্রী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে গণপূর্তের ইএম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকেও সেখানে বদলি করা হয়, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। তবে এ নারী কেলেঙ্কারি গোটা গণপূর্ত জুড়ে স্বচ্ছ কর্মকর্তারা ইমেজ সংকটে পড়েছে।যা আস্থাশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে : এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন সমীরণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেই—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরকীয়া কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে শতকোটি টাকার লুটপাট—সব মিলিয়ে এই ঘটনা এখন শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নগ্ন চিত্র।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তে না এলে, এই ‘সমীরণ অধ্যায়’ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ নজির হয়ে থাকবে—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এসব বিষয় বক্তব্য জানতে চেয়ে সমীকরন মিস্ত্রী কে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। এ কারণে বক্তব্য প্রকাশ করা খেলনা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ