সোমবার, ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“ফলাফল বিশ্লেষণ,, বিদ্রোহী–ফ্যাক্টরে ২১ আসন হাতছাড়া, কোথায় পিছিয়ে পড়ল বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত। ছবি: এএফপি/ ইলাস্ট্রেশন: সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক বেসরকারি ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে।
দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৭৮টিতে দলটির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল। এসব আসনের মধ্যে দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন ৫০টিতে, বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন মাত্র ৭টিতে। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে, ২১টি আসনে জয় গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গীদের ঘরে—যা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
সবচেয়ে বেশি আসন হাতছাড়া হয়েছে খুলনা বিভাগে—৮টি।
অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহীরা সবচেয়ে বেশি সফল চট্টগ্রাম বিভাগে (৩টি)। ঢাকা বিভাগে ২টি এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একটি করে আসনে জয় পেয়েছেন তারা।
আলোচিত বিদ্রোহী জয়
কয়েকটি আসনে বিদ্রোহীদের জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ১,১৮,৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী রুমিন ফারহানা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবিব (৮০,৪৩৪ ভোট)।
কুমিল্লা-৭: দলীয় প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ (৪৮,৫০৯)–কে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিদ্রোহী আতিকুল আলম শাওন পান ৯১,৬৯০ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (৭৯,২১০) হারান দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে (৬৬,১১৮)।
ময়মনসিংহ-১: মোহাম্মদ সালমান ওমর প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৩, দিনাজপুর-৫ ও চাঁদপুর-৪ আসনেও বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন।জামায়াতের কাছে হারানো আসন
কিছু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট বিভাজনের সুযোগ নেয় জামায়াত ও তাদের জোট।
সিলেট-৫: জয়ী হয়েছেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান।
নীলফামারী-৪: জামায়াতের আবদুল মুনতাকিম পান ১,২৪,৮৬৫ ভোট; বিএনপির আবদুল গফুর সরকার পান ৮১,৫২৬।
ময়মনসিংহ-২: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কাছে হারায় বিএনপি।
নোয়াখালী-৬: এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ জয়ী।
এ ছাড়া পাবনা-৩ ও ৪, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-৫, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২ ও ৫, নড়াইল-২, বাগেরহাট-১, ২ ও ৪, সাতক্ষীরা-৩, শেরপুর-১, ঢাকা-১২, মাদারীপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ ও ময়মনসিংহ-৬–এ জামায়াত বা তাদের জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৬: বিদ্রোহী বনাম বিদ্রোহী
ময়মনসিংহ-৬ আসনে ছিল দুই দলেরই বিদ্রোহী। শেষ পর্যন্ত ৭৫,৯৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন জামায়াতের কামরুল হাসান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী আখতার সুলতানা পান ৫২,৬৬৯ ভোট।
এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থিতার ইতিহাসও রয়েছে—২০০১ সালেও জোট-সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার নজির ছিল।
বিদ্রোহীদের চাপে দলীয়দের লড়াই
কিছু আসনে বিদ্রোহী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীরা জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
পটুয়াখালী-৩: জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর (৯৭,৩২৩) বিদ্রোহী হাসান মামুনকে (৮১,৩৬১) হারান।
হবিগঞ্জ-১: রেজা কিবরিয়া জয়ী।
মানিকগঞ্জ-১: জিন্নাহ কবীর ১,৩৭,৭৭৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে।
রাজশাহী-৫: ২০০১ সালের পর প্রথমবার আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি।
নারায়ণগঞ্জের চার আসনেও বিদ্রোহীরা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি।সার্বিক মূল্যায়ন
এই নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে—বিদ্রোহী প্রার্থিতা শুধু দলীয় ঐক্যেই চিড় ধরায়নি, বরং অন্তত ২১টি আসনে ফলাফল ঘুরিয়ে দিয়েছে। খুলনা বিভাগে বড় ধাক্কা এবং কয়েকটি ঐতিহাসিক আসন হারানো বিএনপির জন্য কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের বার্তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা ভোট বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে—যা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।