২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত, দুর্ভোগে লাখো মানুষ। ছবি : সংগৃহীত
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় টানা অঝোর বৃষ্টিতে নগরজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার, আর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আজও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা বর্ষণে রাজধানীর বিজয় সরণি, মানিক মিয়া এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুরের কাজীপাড়া, কালশীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন, যা ঝুঁকি ও দুর্ভোগ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় চলন্ত যানবাহনের ঢেউয়ে পথচারীরা ভিজে পড়ছেন। সরু গলি থেকে প্রধান সড়কে ওঠাও অনেক বাসিন্দার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মেট্রোরেল স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে কর্মজীবী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম, আর গণপরিবহনে ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি যাত্রীর চাপ।
ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর শিক্ষা কার্যক্রমেও। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি। মিরপুরের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পূর্বনির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একইভাবে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

অভিভাবক তানুজা আকবর জানান, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। রাজধানীর আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানান, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে, যদিও শনিবার থেকে সেখানে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
তিনি আরও বলেন, আজ রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের ১২ ঘণ্টাতেই হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। তাঁর মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
